Categories: সারাদেশ

‘মায়ের ফোন কলটি যেন আমার বেঁচে যাওয়ার উসিলা হয়ে এসেছিল’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের একটু পরেই মাকে ফোন করে সেটি জানান হাফিজুর রহমান। আগুন লাগার খবর পেয়ে মায়ের মন আর মানছে কোথায়! একটু পর পরই ছেলের খবর নিচ্ছিলেন। মাকে বারবারই ফোনে অভয় দিয়ে যাচ্ছিলেন ছেলে। বিস্ফোরণের ঠিক আগ মুহূর্তে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে এসে প্রাণে বেঁচে যান হাফিজুর রহমান।

হাফিজুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ড অদূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তিনি। এর মধ্যেই আগুন আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়লে ভিড়ও বাড়তে থাকে। ফলে কথা বলতে সমস্যা হচ্ছিল। বিস্ফোরণের একটু আগে আবার হাফিজকে ফোন দেন মা। মায়ের কথা ভালোভাবে শুনতে হাফিজ ভিড় থেকে অনেকটা দূরে সরে আসেন। এর মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। বন্ধ হয়ে যায় হাফিজের ফোন। কোনোরকমে দৌড়ে সরে যান নিরাপদ দূরত্বে। ঘটনার তাৎক্ষণিকতায় যেন নির্বাক হয়ে পড়েন হাফিজুর। কিছুক্ষণ পর থেকেই আসতে থাকে একের পর এক মৃত্যুর খবর।

তিনি আর জানান, তার মোবাইলটি বন্ধ থাকায় পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। আবার কারও কাছ থেকে মিলছিল না তাঁর সন্ধানও। তাঁর খোঁজ পেতে তাই চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাটের বাসা থেকে রওনা হন ভাগনে কামরুল হাসান নিয়াজ ও নুরুল আবছার বাবুল। শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান তাঁরা। তবে হাজারো মানুষের ভিড় থেকে কোনোভাবেই মামা হাফিজুরকে শনাক্ত করতে পারছিলেন না তাঁরা। আড়াই ঘণ্টা ধরে তাঁরা চষে বেড়ান আশপাশের এলাকায়। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে হতাশ হয়ে যখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে দেখে শহরে ফেরার চেষ্টা করছিলেন তখনই খোঁজ মেলে হাফিজের।

হাফিজুর বলেন, বিস্ফোরণের একটু আগেও ঘটনাস্থলের একেবারেই কাছে ছিলাম। এমন সময় আমার মা ফোন করলে কথা বলার জন্য দূরে সরে যাই। তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। আমার মায়ের কলটি যেন আমার বেঁচে যাওয়ার উসিলা হয়ে এসেছিল। সেই ফোনটা না এলে আমি বিস্ফোরণের মাঝখানেই পড়ে যেতাম।

হাফিজুর আরও বলেন, কোনোমতে দৌড়ে নিরাপদে সরিয়ে আসি। কিন্তু মোবাইলের চার্জ না থাকায় পরিবারকে জানাতে পারিনি। পরিচিত যারা ছিলেন বিস্ফোরণে তাদের অনেকের মোবাইল ফোনও নষ্ট হয়ে যায়। সহকর্মীদের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা সবাই বিহ্বল হয়ে পড়ি। আল্লাহ আমার মতো যদি অন্য সহকর্মীদের কোনো না কোনো উসিলায় বাঁচিয়ে দিতেন!

হাফিজুরের ভাগনে নিয়াজ ও বাবুল বলেন, মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় কোনোভাবেই মামার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। এদিকে পরিবারের সবার মধ্যে আতঙ্ক আর উদ্বেগ কাজ করছিল। আশপাশের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করতে না পেরে আমরাও হতাশ হয়ে পড়ি। হঠাৎ রাত তিনটার দিকে একটা নম্বর থেকে আমার নানুর কাছে ফোন দেন মামা। পরে সেই নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে মামার সাক্ষাৎ পাই।

banglaekattor

Recent Posts

মায়ের পথ অনুসরণ করে চলচ্চিত্রে দিতিকন্যা লামিয়া

ঢাকাই সিনেমার প্রবাদপ্রতিমা অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতির মেয়ে লামিয়া চৌধুরী চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তার মায়ের…

১ সপ্তাহ ago

আমরা দেখলাম, কীভাবে একজন ন’টীর জন্ম হয় : বন্যা মির্জা

নেটফ্লিক্সে আজ মুক্তি পাচ্ছে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত প্রথম হিন্দি ওয়েব ফিল্ম ‘খুফিয়া’। এ…

৭ মাস ago

প্রকাশ্যে এলো রাজ-বুবলীর ‘গোপন’ রহস্য

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দুই অভিনয়শিল্পী শরিফুল রাজ ও শবনম বুবলী। কয়েক দিন আগে জানা গিয়েছিল,…

৭ মাস ago

পরীমণি এত টাকা কোথায় পান, জানালেন নিজেই

ক’দিন আগেই চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সেরেছেন নায়িকা পরীমণি। এখন পুত্র রাজ্যকে ঘিরেই…

৭ মাস ago

‘খেলা হবে’র পর নতুন সূচনা পরীমণির

মা হওয়ার সুবাদে দুই বছর কাজ থেকে দূরে ছিলেন। সেই বিরতি কাটিয়ে কাজে নিয়মিত হচ্ছেন।…

৭ মাস ago

শুভশ্রীর ৪০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে…

৮ মাস ago