ঢাবি অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌ’ন নিপীড়নের গুরুত্বর অভিযোগ - বাংলা একাত্তর ঢাবি অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌ’ন নিপীড়নের গুরুত্বর অভিযোগ - বাংলা একাত্তর

মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

ঢাবি অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌ’ন নিপীড়নের গুরুত্বর অভিযোগ

ঢাবি অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌ’ন নিপীড়নের গুরুত্বর অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে যৌ’ন নি’পীড়নের অ’ভিযোগে বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষের বি’রুদ্ধে শা’স্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটি। তাকে বিভাগের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে তার নামে বরাদ্দ করা কক্ষ বাতিলসহ কয়েকটি শা’স্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ২৯ মার্চ বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় ড. বিশ্বজিৎ ঘোষের বি’রুদ্ধে এ সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। অ্যাকাডেমিক কমিটির ওই সভায় বিভাগের ১৮ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষের বি’রুদ্ধে যৌ’ন নি’পীড়নের অ’ভিযোগ আনেন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী। পরে ওই ছাত্রী বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হকের কাছেও অ’ভিযোগ দেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ মার্চ বিভাগটির অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা ডাকা হয়। ওই সভায় বিশ্বজিৎ ঘোষের বি’রুদ্ধে আনীত অ’ভিযোগের সত্যতা মেলে। ওইদিন দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত বিবরণী অনুযায়ী, সভায় বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক অ’ভিযুক্ত বিশ্বজিৎ ঘোষের বি’রুদ্ধে একজন শিক্ষার্থীর আনা যৌ’ন নি’পীড়নের লিখিত অ’ভিযোগটি উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি লিখিত অ’ভিযোগপত্রটি অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় পাঠ করে শোনান।

বিবরণীতে বলা হয়, ওই সভায় অ’ভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ তার ভু’ল হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি নিজের ভু’লের জন্য অ্যাকাডেমিক কমিটির কাছে ক্ষমা চান। পরে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের বি’রুদ্ধে অ্যাকাডেমিক কমিটি সর্বসম্মতভাবে চারটি শা’স্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেন।

সেগুলো হলো :
– সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হোক। (অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে পড়বে সব ধরনের ক্লাস নেয়া, পরীক্ষায় প্রত্যবেক্ষণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, এমফিল-পিএইচডি গবেষণা তত্ত্বাবধায়ন, পরীক্ষা কমিটির কাজে অংশগ্রহণ প্রভৃতি)। তাকে ভবি’ষ্যতে কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে না এবং সিএন্ডডি ও অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় তাকে ডাকা হবে না। এই সিদ্ধান্ত ভবি’ষ্যতেও কার্যকর থাকবে।

– তার নামে বরাদ্দকৃত বিভাগীয় কক্ষ বাতিল করা হোক।
– আরো বৃহত্তর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বি’ষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে কি না সেটি অ’ভিযোগকারীর সম্মতি সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হোক।
– ত’দন্তকালীন সময়েও অ্যাকাডেমিক কমিটির এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
এদিকে এ বি’ষয়ে অ’ভিযুক্ত বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, আমি তো কিছু জানি না। এটি তো একেবারে বিভাগের নিজস্ব বি’ষয়। গো’পন বি’ষয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ ২০১৭ সালের ১১ জুন থেকে টানা চার বছর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অ’বৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি, নিয়োগ বাণিজ্য, কেনাকা’টায় অর্থের অপচয়সহ বিভিন্ন অ’ভিযোগে আলোচনায় ছিলেন এই অধ্যাপক। ভিসি হিসেবে প্রথম মেয়াদের দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক পদে পুনরায় যোগদান করেন তিনি।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com