পদত্যাগ করেও রক্ষা পেলেন না হেফাজত নেতা আব্দুর রহিম কাসেমী

| আপডেট :  ৪ মে ২০২১, ০২:৩৪ অপরাহ্ণ | প্রকাশিত :  ৪ মে ২০২১, ০২:৩৪ অপরাহ্ণ

সদ্য পদত্যাগকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ মে) বিকেলে তাকে পৌর এলাকার ভাদুঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুফতি কাসেমী হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে এবং হেফাজতের এ ধরণের ধ্বংসাত্মক কাজ ইসলামসম্মত নয় বলে দাবি করে গত ২৩ এপ্রিল দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

তবে পুলিশ বলছে- হেফাজতের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালে চালানো হেফাজতের সহিংসতার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী গত ২৩ এপ্রিল হেফাজত থেকে পদত্যাগ করে সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক।দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না। যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান কাসেমী।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করতে গিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ৫৬টি মামলা হয়। এসব মামলায় ৪১৪ জনাকে এজাহারনামীয় আসামি করে অজ্ঞাত আরো ৩৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪১৫ জন।