সেই দুই তরুণী যৌ’নস’ঙ্গমে অভ্যস্ত ছিল’ - বাংলা একাত্তরসেই দুই তরুণী যৌ’নস’ঙ্গমে অভ্যস্ত ছিল’ - বাংলা একাত্তর

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

সেই দুই তরুণী যৌ’নস’ঙ্গমে অভ্যস্ত ছিল’

সেই দুই তরুণী যৌ’নস’ঙ্গমে অভ্যস্ত ছিল’

আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদে বি’রুদ্ধে ধ”ণের অ’ভিযোগ আনা দুই ত’রুণী ‘সে’ক্সুয়াল পারফরমেন্সে’ অভ্যস্ত ছিলেন। আ’দালতে চিকিৎসকের দেওয়া মেডিক্যাল রিপোর্টের বরাত দিয়ে রায়ে এ কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেওয়া রায়ে ঢাকার নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দ’মন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার রায়ে একথা উল্লেখ করেন। রায়ে সাফাতসহ পাঁচ আ’সামিকেই খালাস দেওয়া হয়। রায়ের শুরুতেই আ’দালত বলেন, আপনারা এই মা’মলাকে আলোচিত বলেন। আমি অবশ্য তেমনটা মনে করি না। আ’দালতের কাছে সব মা’মলাই সমান।

এরপর বিচারক একে একে এজাহার, ভু’ক্তভোগীর জ’বানব’ন্দি, সাক্ষীদের জ’বানব’ন্দি, মেডিক্যাল রিপোর্ট, আ’সামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জ’বানব’ন্দির বর্ণনা দেন। আ’দালত নারী ও শি’শু নি’র্যাতন আইনের ২২ ধারার বর্ণনা দিয়ে পর্যবেক্ষণে বলেন, মা’মলার বা’দী নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেন। তবে তার বয়ফ্রেন্ড আছে এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মেলামেশা হতো। অপর ভু’ক্তভোগী নিজেকে এঙ্গেজড হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই মা’মলায় ২০১৭ সালের ১ জুন আ’সামিদের স্বা’স্থ্য পরীক্ষা করেন ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. সোহেল মাহমুদ। সেই মেডিক্যাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোনো ফোর্সফুল সে’ক্সুয়াল ইন্টাকোর্স (জো’রপূর্বক যৌ’নসঙ্গমের ঘটনা) আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তারা যৌ’নসঙ্গমে অভ্যস্ত।

মেডিক্যাল রিপোর্টের বরাত দিয়ে আ’দালত বলেন, এতে প্রমাণিত হয় যে, তারা রেগুলার শা’রীরিক সম্পর্ক পারফর্ম করে। তাই তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। মা’মলার আ’সামি সাদমানের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ, সে ওই দুই ত’রুণীকে সাফাতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই মা’মলা করেছেন মর্মে আ’দালত অভিমত দেন। রায়ে বলা হয়, ঘটনার পরদিন মা’মলা হওয়ার আগে থেকেই পিয়াসা থানায় গিয়ে বসেছিল। ভু’ক্তভোগীরা জানান, পিয়াসা যে সাফাতের সাবেক স্ত্রী একথা তারা জানতেন না। তবে সে সাফাতের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলেছিল। পিয়াসা যে সাফাতের সাবেক স্ত্রী একথা তারা পরে জেনেছেন।

সাক্ষীদের জ’বানব’ন্দি ও জেরার বর্ণনায় বিচারক বলেন, এই ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে প্রথম পর্যায়ের পাঁচজন সাক্ষী ছিলেন রেইন্ট্রি হোটেলের কর্মচারী। তারা আ’দালতে সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জ’বানব’ন্দিতে বলেছেন, ওইদিন রাতে বিভিন্ন সময়ে তারা হোটেলে ডিউটিরত ছিলেন। তবে সেখানে কোনো ধ”ণ বা অপ্রীতিকর ঘটনা তারা শোনেননি বা দেখেননি। পরদিন পুলিশ এসে সেখান থেকে কিছু সিসিটিভি ফুটেজ জ’ব্দ করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা পুলিশের কাছ থেকেই প্রথম ধ”ণের ঘটনার কথা জানতে পারেন।

এই মা’মলায় পাঁচ আ’সামির চারজন আ’দালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আ’দালতে স্বী’কারোক্তিমূরক জ’বানব’ন্দি দেন। জ’বানব’ন্দিতে তারা বলেন, ওইদিন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সাফাতের জন্ম’দিনের কেক দিয়ে যান হোটেলের কর্মচারী। এরপর ওই দুই ভু’ক্তভোগীসহ (বান্ধবী) আরও কয়েকজন ত’রুণী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেসময় তারা একত্রে ম’দপান করেন এবং নাচে মত্ত হন।

সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী তার জ’বানব’ন্দিতে বলেন, তিনি রাত পৌনে তিনটার দিকে রেইন্ট্রি হোটেলের ওই রুমে সাফাত, নাঈম ও দুই ত’রুণীকে একসঙ্গে শুয়ে থাকতে দেখেন। বিচারক বলেন, একসঙ্গে ম’দ্যপ অবস্থায় ড্যান্স করলেন, পরে এক বিছানায় চারজন মিলে শুয়ে থাকলেন, এখানে ধ”ণ কীভাবে হলো? তারা ছিলেন উইলিংলি পার্টনার (স্বেচ্ছায় শয্যাসঙ্গী)। সেখানে শা’রীরিক সম্পর্ক হয়েছে কিন্তু সেটা ধ”ণ নয়। আর ওই হোটেলে অ’স্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা যায় না বলে কর্মচারীরা সাক্ষ্যে বলেন। সুতরাং অ’স্ত্রের মুখে কীভাবে ধ”ণের ঘটনা ঘটলো?

আ’সামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, রি’মান্ডে নিয়ে পু’রুষাঙ্গে ইলেক্ট্রিক শকসহ বিভিন্নভাবে নি’র্যাতন করে তাদের স্বী’কারোক্তি নেওয়া হয়েছে। তাদের ওই ১৬৪ ধারার জ’বানব’ন্দি প্রত্যাহারেরও আবেদন করা হয়েছে। পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় আমার কাছেও তাই মনে হচ্ছে। তাই ওই ১৬৪ ধারার জ’বানব’ন্দিকে এই রায়ে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারছি না।

এরপর আ’দালত নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দ’মন আইনের ৯(১) ধারার ব্যাখ্যা উল্লেখ করে বলেন, যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্র’তারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌ’নসঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধ”ণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

এখানে ধ”ণের তিনটি উপাদান উল্লেখ রয়েছে, সম্মতি ব্যতিরেকে, ভীতি প্রদর্শন বা প্র’তারণামূলক সম্মতি আদায় কোনোটিই এই মা’মলায় বিদ্যমান নাই। ঘটনার ৩৮ দিন পর মা’মলা হলো, চিকিৎসক মেডিক্যাল রিপোর্টে ধ”ণের আলামত পাননি মর্মে মতামত দিলেন, ভু’ক্তভোগীদের পরিধেয় কাপড়ে কোনো পুরুষের সিমেন্সের কণা পাওয়া যায় নাই এবং আ’সামি নাঈম আশরাফের সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট ম্যাচ করে নাই। তারপরও ত’দন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভি’কটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি চার্জশিট দাখিল করে আ’দালতের পাবলিক টাইম ন’ষ্ট করেছেন। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধ”ণ মা’মলার বিচার ব্যাহত হয়েছে। ত’দন্ত কর্মকর্তা অন্য কোনো পক্ষ কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে এই চার্জশিট দিয়ে মা’মলাটি বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন। আজকের দিনসহ এই মা’মলায় ৯৪ কার্যদিবস ব্যয় হয়েছে।

আ’দালত আরও বলেন, ২২/২৩ বছরের একজন লেডি, এক বেডে চারজন একত্রে শুয়েছিল, ম’দ খেল, ড্যান্স করলো—এটা জেনেও অহেতুক এই প্রতিবেদন দিয়ে কোর্টের টাইম কনজিউম করলো।

আ’দালত বলেন, ৭২ ঘণ্টার পর মেডিক্যাল টেস্ট করা হলেই ধ”ণের আলামত পাওয়া যায় না। তাই ৭২ ঘণ্টার বেশি হলে মা’মলা না নেওয়ার আদেশ দিচ্ছি। কেননা তাতে মা’মলা প্রমাণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে। পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় এই মা’মলা সাজা হওয়ার মতো নয়। তাই প্রসিকিউশন এই মা’মলার আ’সামিদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ স’ন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আ’সামিদের উক্ত অ’ভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হলো।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জন্ম’দিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অ’স্ত্রের মুখে ঢাকার একটি বেস’রকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ধ”ণের অ’ভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনের বি’রুদ্ধে মা’মলা করা হয়।

২০১৮ সালের ৭ জুন মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভি’কটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচজনের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগপত্রটি আ’দালতে দাখিল করেন। ওই বছরের ১৩ জুলাই আ’সামিদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করেন আ’দালত।

গত ২২ আগস্ট মা’মলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চার্জশিটভুক্ত ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আ’দালত। গত ৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আ’সামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আ’দালত রায়ের তারিখ ১২ অক্টোবর ধার্য করেন। ওই দিন জা’মিনে থাকা এ মা’মলার পাঁচ আ’সামির জা’মিন বাতিল করে তাদের কা’রাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আ’দালত। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ২৭ অক্টোবর ধার্য করেন আ’দালত।

এরপর গত ২৭ অক্টোবর প্রবীন আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুম’দারের মৃ’ত্যুতে নিম্ন আ’দালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তাই রায়ের তারিখ ফের পিছিয়ে ১১ নভেম্বর ধার্য করা হয়। সূত্রঃ বাংলানিউজ২৪

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com