মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন

একজন কুরআনের হাফেজ কিভাবে এতটা অ’মানবিক হতে পারে জানতে চান আজহারী

একজন কুরআনের হাফেজ কিভাবে এতটা অ’মানবিক হতে পারে জানতে চান আজহারী

হিফজখানাগুলোতে শি’শু নি’র্যাত’নে’র ইতিহাস এদেশে অনেক পুরাতন। আধুনিককালে প্রায়শই নি’র্যাত’নে’র ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়। সম্প্রতি যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটা দেখে রীতিমত সবাই আ’ত’কে উঠেছে। চো’র ডা’কাত’কেও তো মানুষ এভাবে পে’টায় না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই নি’র্দয় শিক্ষক কি কোন ভু’ল করলে তার নিজ স’ন্তানকেও বাসায় এভাবেই পে’টায়? একজন হাফেজে কুরআন শিক্ষক কিভাবে এতটা হিং’স্র, পা’শবি’ক এবং অ’মানবিক হতে পারে?

কুরআনকে শুধু হিফজ করে বুকে ধারণ করলেই আলোকিত মানুষ হওয়া যায় না। কুরআনের প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবন করতে হয়, কুরআনের রঙ্গে রংঙ্গীন হতে হয় এবং কুরআনের অমিয় শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করতে জানতে হয়, তাহলেই একজন মানুষ আলোকিত মানুষ হয়ে উঠে। আসলে এরা সুযোগের অভাবে সৎ। বড় কোন দায়িত্ব পেলে নিশ্চিত এরা সেখানেও এরকম হিং’স্র তান্ড’ব চালাতো।

তাই, সময় এসেছে ধর্মীয় শিক্ষার নামে এসব অ’মানবিক নি”র্যাত’নের বি’রু’দ্ধে আ’ওয়া’জ তোলার। নিজ নিজ এলাকার হিফজখানাগুলোর খোঁজ নিন। নি’র্যাত’নে’র অ’ভিযো’গ পেলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানান। এদেরকে বি’চারের আওতায় আনুন। প্রতিটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় বা’ধ্যতামূলক সি সি ক্যামেরা থাকা চাই। সি সি ক্যামেরা না থাকলে ঐ হিফজখানায় আপনার আদরের স’ন্তানদের ভর্তি করাবেন না।

পাশাপাশি, যারা তাদের স’ন্তানদের হিফজখানা অথবা কোন মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে রেখে পড়াচ্ছেন তারা শীঘ্রই স’ন্তানদের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন এবং নিশ্চিত হোন যে তারা কোনভাবে শারিরীক, মা’নসিক অথবা যৌ’ন নি’র্যাত’নে’র শি’কার হচ্ছে কিনা।

ইসলাম আমাদেরকে কুরআনুল কারীম হিফজ করতে উৎসাহিত করেছে কিন্তু বা’ধ্যতামূলকভাবে সবাইকে পুরো কুরআনের হাফেজ হতে নির্দেশ করেনি। আর এটা সম্ভবও নয়। যাকে দিয়ে যেটা হবেনা, তাকে দিয়ে জো’র করে সেটা করানোর চেষ্টা করা— বোকামি আর সময় নস্ট করা ছাড়া কিছুই নয়।

কুরআন সহীহ শুদ্ধ ভাবে পড়তে পারা, নিয়মিত তিলাওয়াত ও কুরআন বুঝাটা হল আবশ্যক। ত্রিশ পারা কুরআনের হাফেজ তো আর সবাই হতে পারবে না। তবে, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা মেধা ও তাওফিক দিয়েছেন তাদের উচিত এই মহারত্নকে হৃদয়ে গেথে রাখার প্রানান্তকর চেষ্টা চা’লিয়ে যাওয়া। কারণ এ যে পরম সৌভাগ্যের বি’ষয় যা সবার নসিবে থাকেনা। ফুলটাইম হিফজের পাশাপাশি এদেশে পার্টটাইম তাহফিজ সেন্টারেরও খুব দরকার। যারা পুরো কুরআন হিফজ করতে পারবে না তারা পাঁচ পারা, দশ পারা কিংবা পনেরো পারা হিফজ করবে।

এতে লজ্জার কিছু নেই। আরব বিশ্বে এই সুন্দর প্রচলনটি রয়েছে। অর্থাৎ তারা প্রায় সবাই কুরআনের কিছু না কিছু হিফজ করে থাকে। যাদের মেধা ভালো তারা পুরো কুরআন আর অন্যান্যরা তাদের সাধ্যমত। এটাই বাস্তবতা। এখানে তো জো’রাজো’রি কিংবা মা’রামা’রির কিছু নেই। একজন শিক্ষক তার ছাত্রদেরকে প্রয়োজনে অবশ্যই শাসন করতে পারে। কিন্তু এভাবে পি’টি’য়ে শরীরে দা’গ করে ফেলা, হাতে পায়ে শি’কল বেধে রাখা এবং ইচ্ছা বা সা’ধ্যের বাইরে অভিবাবক কতৃক অনবরত স’ন্তানদের চা’প প্রয়োগ করা— এসবের কোনটাই ইসলাম সম্মত নয়। এতে শি’শুর স্বাভাবিক বিকাশ ক্ষ’তিগ্র’স্ত হয়।

উন্নত দেশে চাইলেই যে কেউ শিক্ষক হতে পারে না। শিক্ষক হতে হলে নূন্যতম একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি কিছু প্রশিক্ষণ নিতে হয়। বিশেষ করে, ব’দমে’জাজী লোক হলে তো শুরুতেই শি’শুদের জন্য শিক্ষক বাছাইয়ে সে ডিসকোয়ালিফাইড। শি’শুদেরকে পড়াতে হলে, প্রচন্ড ধৈর্য্যশক্তি এবং যথেস্ট সেন্স অব হিউমর থাকতে হয়।

মিশরে অধ্যয়নকালে বিশ্ববিখ্যাত প্রশিক্ষক ড. হুসনি আব্দুর রহিম ক্বিনদিলের সুপারভিশনে “আদর্শ পাঠদান পদ্ধতি” এর উপর ৫০ ঘন্টার একটি কোর্স করেছিলাম। সেখানে তিনি যেকোন পরিস্থিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করতে সর্বাবস্থায় নিষেধ করেছেন। ওনার মতে, ক্লা’শে বে’ত রাখা যাবে কিন্তু ছাত্রদের উপর প্রয়োগ করা যাবে না বরং অন্যান্য উপায়ে তাদেরকে শাসন করতে হবে। আসলে শাসনের যথাযথ পদ্ধতি জানা থাকলে, বে’ত ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনা।

আমাদের দেশে যে কোন উপলক্ষ্যে মাদ্রাসা কিংবা স্কুলগুলোতে বাৎসরিক ছুটি দিলে স্বভাবতই শিক্ষার্থীরা খুব খুশী হয় কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে স্কুল বন্ধ দিলে শি’শুরা কা’ন্না করে। কারণ তারা বাসার চেয়ে স্কুলকে বেশী ইনজয় করে। ছুটির দিনগুলোতে তারা তাদের সুন্দর ক্লাসরুম, ক্লা’শমেইট এবং প্রিয় শিক্ষকদের খুব মিস করে।

মনে আনন্দ নিয়ে বাচ্চারা যেটা শিখে, সেটাই তারা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে। আমাদের সোনামণিরা মনের আনন্দে, হেসে, খেলে যেন সব শিখতে পারে, সেটার প্রতি আমাদের সবার লক্ষ্য রাখা উচিত। আনন্দ আর উৎসাহ নিয়ে ওরা যা শিখবে, সেটাই হল আসল শিক্ষা। এতে করে শৈশবের এই মূহুর্তগুলো ওদের জীবনে সুন্দর স্মৃ’তি হয়ে থাকবে। মানুষ স্বভাবতই তার অতীতকে ফিরে দেখতে ও স্মৃ’তিচারণ করতে পছন্দ করে। তার শৈশবের সকল নস্টালজিয়া বা অতীতবিধুরতার কল্পনায় আবেগাপ্লুত হয়। কিন্তু এভাবে অ’মানবিক নি’র্যাত’নের মধ্য দিয়ে যদি কোন শি’শু বড় হয়, তাহলে সেটা সে সহজে ভু’লতে পারে না। ফলে, এটা তার চিন্তাপ্রক্রিয়া ও বেড়ে ওঠায় মা’রাত্ম’ক নে’তিবা’চক প্রভাব ফেলতে পারে। যেটার বি’রু’প প্রতিক্রিয়া তার পুরো জীবনটাকেই ধ্বং’স করে দিতে পারে। ন’ষ্ট করে দিতে পারে তার আগামীর উজ্জ্বল ভবি’ষ্যত। তাই, মনে রাখবেন— জো’র করে কিছু শেখানোর নাম শিক্ষা নয়, শিক্ষা হল আপনার স’ন্তানের সত:স্ফুর্ত আত্মবিকাশ।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com