মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

পায়ে চে’পে ধরে হি’ফজ বিভাগের শি’ক্ষার্থীকে নি”র্ম”ম নি”র্যা’তনের ভিডিও ভাইরাল, বাঁ’চার আ’কুতি শি”শুর

পায়ে চে’পে ধরে হি’ফজ বিভাগের শি’ক্ষার্থীকে নি”র্ম”ম নি”র্যা’তনের ভিডিও ভাইরাল, বাঁ’চার আ’কুতি শি”শুর

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি মাদরাসায় ৮ বছর বয়সী এক শি’শু শি’ক্ষার্থীকে নি’ র্ম’ম নি”র্যাতন করা হয়েছে। নি’র্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্র’তিবাদের ঝ’ড় উঠে। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) থেকে হাজার হাজার মানুষ ওই ভিডিও শেয়ার করেন। এ ঘটনায় অ’ভিযুক্ত শি’ক্ষককে প্রশাসন আ’টক করলেও রাত ২টা পর্যন্ত উপজে’লা অফিসে অবস্থান করে সেই হু’জুরকে ছা’ড়িয়ে নিয়ে যান নি”র্যাতিত শি’শুর মা-বাবা।

জানা গেছে, হাটহাজারীর পৌর এলাকার মারকাজুল কোরান ইসলামি একাডেমি মা’দরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী শি’শু ইয়াসিন। সোমবার (৮ মার্চ) বিকেলে মা পারভিন আক্তার ও বাবা মোহাম্ম’দ জয়নাল মাদরাসায় তাদের স’ন্তানকে দেখতে যান। কিন্তু ফেরার সময় ছোট্ট শি’শুটি মা-বাবার সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে। এক পর্যায়ে সে মা-বাবার পিছু পিছু মাদরাসার মূল ফটকের বাইরে চলে আসে।

আর এতেই ক্ষি’প্ত হয়ে উঠেন মাদরাসার হুজুর ইয়াহিয়া। মা-বাবার সঙ্গে মূল ফটকের বাইরে কেন গিয়েছে শুধু এই কারণে শি’শুটিকে বেত দিয়ে বে’ধড়ক পে’টাতে থাকেন। আর শি’শুটি বাঁচার আকুতি জানাতে থাকে। তারপরেও ক্ষান্ত হননি ইয়াহিয়া। অনবরত চলে তার পি’টুনি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের কেউ একজন ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে, নি’র্মম নি’র্যাতনের প্র’তিবাদে সরব হয়ে উঠেন নেটিজেনরা। ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট আরিফ জেবতিক তার ফেসবুক ওয়ালে ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে লিখেন, ‘এই অ’মানবিকতার বি’রুদ্ধে কথা বলা নিষেধ!’

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাস’চিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখেন, ‘এসব শিক্ষক নামধারীরা মানুষ না পশু? এরা কি মানুষ গড়ার কারিগর না মানুষ মা’রার কারিগর? এই নিরীহ শি’শু বাচ্চাটির উপর তার এত রাগ, এত ক্রোধ কেন?’

ফেসবুক ব্যবহারকারী সাজ্জাদ মাহমুদ লিখেন, ‘ছাত্র দোষ করলে এভাবে মা’রধর কখনো শাসন হতে পারে না। এখানে যা করা হচ্ছে তা পুরোপুরি জু’লুম। কর্তৃপক্ষের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।’ এভাবেই যখন পুরো দেশ এমন নি’র্মম নি’র্যাতনে প্র’তিবাদে সরব, তখন নিজ স’ন্তানের প্রতি এমন অ’মানবিক আচরণের বিচার চান না ওই শি’শুর মা-বাবা! উপরন্তু উপজে’লা প্রশাসন এই ঘটনায় অ’ভিযুক্ত শিক্ষককে আ’টক করলেও রাত দুইটা পর্যন্ত উপজে’লা অফিসে অবস্থান করে সেই হুজুরকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্র’তিবাদ এসেছে এই ঘটনারও। এস এম রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছেন, ‘সত্যিই অবাক হলাম আমাদের সহজ-সরল ধর্মভীরু মা-বাবা দেখে! বেহেস্তের লোভে হুজুর নামের এসব জল্লাদ কশাইর হাতে স’ন্তানকে সঁপে দিচ্ছে!’

লোভা হোসাইন লিখেছেন, ‘বাচ্চাটা বড় হয়ে ওই মা-বাবাকে ক্ষমা করলেই হয়।’কুতুব উদ্দিন চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, ‘ফৌজদারি অ’পরাধ ঘটলে এর শা’স্তি বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘স্থানীয় একজন শি’শুটিকে প্রহারের ঘটনা আমাকে জানান। ইতোমধ্যে বি’ষয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আমি তাৎক্ষণিক হাটহাজারী থানার একটা টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে চকলেট নিয়ে যাই। বাচ্চাটির সঙ্গে কথা বলি এবং অ’ভিযুক্ত শিক্ষককে আ’টক করি। তার বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব এমন সময় ছাত্রের বাবা-মা এসে কা’ন্নাকাটি করেন এবং শিক্ষককে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে জানান।’

তিনি বলেন, ‘তারা কিছুতেই মা’মলা করবেন না এবং আমাদেরকেও আইনগত ব্যবস্থা না নিতে অনুরোধ করেন। তাদেরকে অনেক বুঝানো সত্ত্বেও তারা লিখিতভাবে আমাদের অনুরোধ করেন আইনি ব্যবস্থা না নিতে। রাত ২টা পর্যন্ত অভিভাবকেরা আমার কার্যালয়ে অবস্থান করেন যেনো আইনি ব্যবস্থা না নিই।’

রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি রাত ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি এই ঘটনায় মা’মলা দা’য়েরের জন্য। মা’মলার খরচসহ আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়ার পরেও লেখাপড়া না জানা মা-বাবা কোনোভাবেই অ’ভিযোগ দা’য়েরে রাজি হয়নি। হাফেজি মাদরাসাগুলোতে এভাবে নি’র্মম নি’র্যাতন নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু কেউ অ’ভিযোগ দা’য়ের করেন না। এটিও সমাজের বৈকল্যতা।’

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com