শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বিশ্বজুড়ে ক’রোনা ম’হামা’রি ঠে’কাতে গোমূত্র পান করার পরামর্শ বিজেপি নেতার (ভিডিও) এবার রাজধানীতে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত রবিবার যে সময় পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ শুক্রবার পবিত্র রমযানে আজান দিয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন বাংলাদেশি শফিকুর নামাজরত ইমামকে থা’প্পড়, নামাজ ভেঙে হা’ম’লাকারীকে মা’রধর মুসল্লিদের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’ রিকশাচালকের ৬০০ টাকা কেড়ে নেয়া সেই তিন পুলিশ বরখাস্ত করোনা চিকিৎসায় ২ লক্ষ টাকা নগদে, নতুন নির্দেশিকা আয়কর দফতরের দেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিনব আবিষ্কার, মাত্র ৫ টাকায় ৪০ কিমি ছুটবে এই বাইক
৫০ বছরের বন্ধু হয়েও এ টি এম শামসুজ্জামানের বিদায়ের খবর এখনো জানেন না প্রবীর মিত্র

৫০ বছরের বন্ধু হয়েও এ টি এম শামসুজ্জামানের বিদায়ের খবর এখনো জানেন না প্রবীর মিত্র

৫০ বছরের বেশি সময় তাঁদের বন্ধুত্ব। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছিলেন দুই গুণী অভিনয়শিল্পী প্রবীর মিত্র ও সদ্য প্রয়াত এ টি এম শামসুজ্জামান। পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তাঁরা। স্কুল ও মহল্লায় একসঙ্গে নাট্যচর্চা করেছেন। সুখ–দুঃখে একসঙ্গে ঢালিউডে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। একসময় নিয়মিত এফডিসিতে আড্ডা দিতেন তাঁরা। শনিবার এই বন্ধুদ্বয়ের একজন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বন্ধুকে হা’রানোর কথা এখনো জানানো হয়নি প্রবীর মিত্রকে।

এমনিতে নিজেও বয়সের ভারে ন্যুব্জ। কারও মৃ’ত্যুসংবাদ শুনলেই ভে’ঙে পড়েন প্রবীর মিত্র। মা’নসিকভাবে বি’পর্যস্ত হয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বন্ধ করে দেন। এসব তথ্য দিয়ে অভিনেতার পুত্রবধূ সোনিয়া ইয়াসমিন আজ বুধবার প্রথম আলোকে জানান, তাঁর শ্বশুর সম্প্রতি নিজের ভাইকে হা’রিয়েছেন। সেই থেকেই তাঁর মনটা কিছুটা খা’রাপ। তিনি শো’ক সইতে পারেন না। এই ঘটনার মধ্যেই জানতে পারেন এ টি এম শামসুজ্জামান মা’রা গেছেন। তাঁরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই মুহূর্তে বন্ধুর মৃ’ত্যুর কথা এই অভিনেতাকে জানাবেন না। তিনি ক’ষ্ট পাবেন।

সোনিয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা এখনই বাবাকে এ টি এম শামসুজ্জামান চাচার মৃ’ত্যুর ব্যাপারে কিছুই জানাতে চাচ্ছি না। জানলে তিনি অস্থির হয়ে যাবেন, ভে’ঙে পড়বেন। কিছুই খেতে চাইবেন না। এ জন্য এ টি এম চাচা মা’রা যাওয়ার দিন থেকে বাবার রুমে পত্রিকা দেওয়া হয় না। তাঁর ফোন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাবার রুমের টিভিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবার থেকে চাইছি কোনোভাবেই যেন বাবা এ টি এম চাচার মৃ’ত্যুর খবর না জানুক। নতুন কোনো ক’ষ্টের খবর তাঁকে দেওয়া নিষেধ।’

প্রবীণ দুই গুণী অভিনেতা বয়সে ছিলেন এক বছরের ছোট–বড়। প্রবীর মিত্র ছিলেন বড়। তাঁর বয়স ৮০ বছর। দুজনের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা মহল্লাতেই খেলাধুলা ও নাট্যচর্চা করে সময় কা’টাতেন। বিভিন্ন উৎসবে একসঙ্গে মহল্লার আয়োজনে অভিনয় করতেন। বেশির ভাগ চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্বে থাকতেন এ টি এম শামসুজ্জামান। বিভিন্ন সময় পুরান ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ঘুরতে বের হতেন। তাঁদের বন্ধুত্ব দিন দিন বেড়ে চলে। দুজনই চাইতেন চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন।

এ টি এম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্রজীবনের শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বি’ষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। এই অভিনেতা প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। পরিচালক এইচ আকবরের এই চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন প্রবীর মিত্র। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রবীর মিত্র ‘নায়ক’ হিসেবে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপর ‘চরিত্রাভিনেতা’ হিসেবে কাজ করেও তিনি পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা। এ টি এম শামসুজ্জামান ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। দুজনেই ছিলেন গুণী অভিনেতা। তাঁরা উভ’য়েই অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

প্রবীর মিত্র এবং এ টি এম শামসুজ্জামানের অনেকদিন দেখা না হলেও দুই পরিবারের মধ্যে কিছুটা যোগাযোগ হতো। প্রবীর মিত্রের খুব বেশি বন্ধু ছিল না। তাঁর একমাত্র জীবিত কাছের বন্ধু ছিলেন এ টি এম শামসুজ্জামান। সোনিয়া ইয়াসমিন জানান, গত মাসের শেষের দিকে প্রবীর মিত্রের পেটের কিছুটা স’মস্যা দেখা দেয়। পরে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এখন তাঁর শা’রীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো। ২০১৭ সালের মে মাস থেকে বাসায় বিশ্রামে আছেন। শুটিংয়ের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে দূরে। তারপর থেকেই তিনি অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। এর মধ্যেই তিনি গত জুলাই মাসে ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে সেরে উঠেছেন।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com