শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি ঠেকাতে গোমূত্র পান করার পরামর্শ বিজেপি নেতার (ভিডিও) এবার রাজধানীতে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত রবিবার যে সময় পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ শুক্রবার পবিত্র রমযানে আজান দিয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন বাংলাদেশি শফিকুর নামাজরত ইমামকে থা’প্পড়, নামাজ ভেঙে হা’ম’লাকারীকে মা’রধর মুসল্লিদের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’ রিকশাচালকের ৬০০ টাকা কেড়ে নেয়া সেই তিন পুলিশ বরখাস্ত করোনা চিকিৎসায় ২ লক্ষ টাকা নগদে, নতুন নির্দেশিকা আয়কর দফতরের দেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিনব আবিষ্কার, মাত্র ৫ টাকায় ৪০ কিমি ছুটবে এই বাইক
মা’দক ব্যবসায়ীকে ছাড়তে দরদামে ব্যস্ত এস’আই, হঠাৎ হাজির হয়ে হা’তেনাতে ধ’রল ক’মিশনার

মা’দক ব্যবসায়ীকে ছাড়তে দরদামে ব্যস্ত এস’আই, হঠাৎ হাজির হয়ে হা’তেনাতে ধ’রল ক’মিশনার

পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে ব্যবহার করেন চোরাই প্রাইভেটকার। সর্বক্ষণ চলেন মা’দক ব্যবসায়ীদের নিয়ে। বড় বড় মা’দক ব্যবসায়ী দিয়ে ব্যবসা করান। তাদের ব্যবহার করে খুচরা ব্যবসায়ীদের ধরে এনে টাকা আদায় করেন। ঠিক যেন বড় মাছ দিয়ে ছোট মাছ ধরা।এসবই এতদিন ছিল আরএমপির তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির ই’নচার্জ এসআই মাসুদ রানার রোজনামচা। এসআই মাসুদ রানার বি’রুদ্ধে অ’পরাধের পাহাড় জমলেও এতদিন অধরাই থেকেছেন। গত মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ কমিশনার অ’ভিযোগ পেয়ে আকস্মিকভাবে নিজেই হাজির হন ফাঁড়িতে।

ঠিক ওই সময় এসআই মাসুদ রানা এক মা’দক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য দরদামে ব্যস্ত ছিলেন। হাতেনাতে ধরে পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক তাৎক্ষণিকভাবে এসআই মাসুদ রানাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। মাসুদ রানা ফাঁড়ির চার্জ হা’রিয়ে এখন পুলিশ লাইনে।আরএমপির তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়িটি নগরীর অভিজাত এলাকা পদ্মা আবাসিকে অবস্থিত। গত দু’বছর ধরে ফাঁড়ির ই’নচার্জের দায়িত্বে ছিলেন মাসুদ রানা। এতদিন ফাঁড়িটি ছিল মা’দক ব্যবসায়ীদের মহব্বতখানা।

বড় বড় মা’দক ব্যবসায়ী নিয়েই কাটত মাসুদ রানার দিনরাত। অভিজাত এলাকা হওয়ায় পদ্মা আবাসিক মা’দক কারবারের বড় মোকাম। এলাকায় মা’দক বিক্রি ওপেন সিক্রেট। এসআই মাসুদ রানার নিয়োজিত মা’দক সম্রাটরাই নিয়ন্ত্রণ করেন কারবার। দিনশেষে নোটের বান্ডিল এসে ঢুকত মাসুদ রানার পকে’টে।

অ’ভিযোগে আরও জানা গেছে, মঙ্গলবার সোহেল নামের একজন বড় মা’দক ব্যবসায়ীকে হেরোইনসহ জামালপুর এলাকা থেকে আ’টক করে ফাঁড়িতে নেন মাসুদ রানা। তবে তার বি’রুদ্ধে মা’মলা না দিয়ে ফাঁড়িতে রেখে ছেড়ে দেওয়ার জন্য দর কষাকষি করছিলেন।

আ’টক হেরোইন আরেক মা’দক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির দরদামও করছিলেন। গো’পন সূত্রে খবর পেয়ে আরএমপি কমিশনার নিজেই হাজির হন ফাঁড়িতে। এ সময় তিনি দেখতে পান- আ’টক মা’দক ব্যবসায়ী সোহেল ও তার পরিবারের লোকদের নিয়ে বসে দরদামে ব্যস্ত মাসুদ।

কমিশনার পুরো ঘটনা অবগত হয়ে এসআই মাসুদ রানাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পরে মা’দক ব্যবসায়ী সোহেলকে ২৫ গ্রাম হেরোইনসহ মা’মলা দা’য়ের করা হয়।

কমিশনারের ফাঁড়ি অ’ভিযানে সঙ্গে থাকা চন্দ্রিমা থানার ওসি সিরাজুম মুনীর বলেন, এসআই মাসুদ রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বি’রুদ্ধে থাকা অন্যান্য অ’ভিযোগেরও ত’দন্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অ’ভিযোগে জানা গেছে, এসআই মাসুদ রানা পদ্মা আবাসিক ও আশপাশের এলাকাকে অ’পরাধের অভ’য়ারণ্য করে তোলেন। মাসুদ মাসোহারা আদা’য়ের সুবিধার্থে মা’দক ব্যবসায়ীদের নাম-ঠিকানা ফোন নম্বর দিয়ে একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করতেন। এতে মাসোহারার পরিমাণ ও পরিশোধের তারিখও লিখে রাখতেন।

শতাধিক মা’দক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসে ১০ লাখ টাকা মাসোহারা পেতেন তিনি। কেউ তাকে ফাঁকি দিয়ে মা’দক ব্যবসা করলে, খবর পেয়ে ধরে আনতেন ফাঁড়িতে। একবারে বকেয়াসহ পুরো মাসোহারা আদায় করে ছাড়তেন।

গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর ভদ্রা মোড়ে চালভর্তি একটি মিনিট্রাক তল্লা’শি করে ৫ প্যাকেট হেরোইন উ’দ্ধার করেন এসআই মাসুদ। ট্রাকটি গোদাগাড়ীর বিদিরপুর বাজারের মোহা. টেবলুর মিল থেকে চাল নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। চালের বস্তার ভেতরে বিপুল পরিমাণ হেরোইনও নিয়ে যাচ্ছিল।

এসআই শাহীন ৫ প্যাকেট হেরোইন, ট্রাকসহ চালক, হেলপার ও একজন মা’দক ব্যবসায়ীকে আ’টক করে চন্দ্রিমা থানায় দেন। এদিকে ওই রাতেই এসআই শাহীন মা’দকের মূল মালিক হিসেবে বিদিরপুর থেকে মো. টেবলু ও শরিফ নামের দুজনকে আ’টক করে চন্দ্রিমা থানায় আনেন।

তবে দিনশেষে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে টেবলু ও শরিফকে ছেড়ে দেওয়া হয় থানা থেকে। বাকিদের মা’দকের মা’মলা দিয়ে আ’দালতে পাঠানো হয়। অ’ভিযোগ রয়েছে এ ঘটনার পরই এসআই শাহীন একটি চোরাই প্রাইভেটকার কেনেন। বরখাস্ত হওয়ার আগপর্যন্ত মাসুদ তার প্রাইভেটকারে পুলিশ লেখা স্টিকার লাগিয়ে শহরে ঘুরতেন।

স্থানীয়দের অ’ভিযোগে আরও জানা গেছে, এসআই মাসুদ রানা ও তার অনুগত কনস্টেবল জামিল প্রতিদিন ধরা-ছাড়ার বাণিজ্য করতেন। কনস্টেবল জামিলের কাছেও রয়েছে একাধিক চোরাই মোটরসাইকেল। মা’দক ব্যবসায়ী কাম-সোর্সরা এসব মোটরসাইকেলে দাপিয়ে বেড়ায়।

বড় বড় এসব মা’দক ব্যবসায়ী দিয়ে মাসুদ ও জামিল খুচরা কারবারিদের ধরে এনে টাকা আদায় করতেন। মা’দক ব্যবসায়ীদের নিয়ে ফাঁড়িতে মাসিক আদায় পরিস্থিতি নিয়েও সভা করতেন মাসুদ ও জামিল। এসআই মাসুদ ও কনস্টেবল জামিল তাদের বি’রুদ্ধে উঠা সব অ’ভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে এসআই মাসুদকে বরখাস্ত করা হলেও তার মূল হাতিয়ার কনস্টেবল জামিল থেকে গেছেন ফাঁড়িতে। তবে মাসুদ ও জামিলের চোরাই প্রাইভেটকার ও চোরাই মোটরসাইকেল হেফাজতে রেখে ব্যবহার করাসহ মা’দক সম্পৃক্ততার বি’ষয়ে ত’দন্ত শুরু হয়েছে।

বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সোনিয়া পারভীন পুরো বি’ষয় ত’দন্ত করছেন। এসি সোনিয়া জানান, তিনি ত’দন্তের নির্দেশ পেয়েছেন। ত’দন্ত শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সুত্রঃ যুগান্তর

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com