তিব্র গরমে ডাবের দাম আকাশচুম্বী!

| আপডেট :  ১৭ জুলাই ২০২২, ০৭:৪৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশিত :  ১৭ জুলাই ২০২২, ০৭:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। বাইরে বের হলেই দেদারসে ঘামছে মানুষ, হচ্ছে তৃষ্ণার্ত। কিন্তু গত কয়েকদিনে তৃষ্ণা মেটাতে যারা ডাব খেতে চেয়েছেন, দাম শুনে তাদের চোখ কপালে। রাজধানীতে একটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়।একটি ডাব থেকে সাধারণত এক থেকে দেড় গ্লাস পানি হয়। এইটুকু ডাবের পানি খেতে চাইলে গুনতে হবে বড় অংকের টাকা- যা একরকমের অযৌক্তিক। অনেকেই ডাব না খেয়ে রাস্তার পাশের লেবুর শরবত, স্যালাইন পানি ও বিভিন্ন রকমের জুস খাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বাংলামটর কাঁঠালবাগানের ডাব বিক্রেতা মাহবুব বলেন, এখন ডাবের চাহিদা বেশি। বলা যায় ব্যবসার মৌসুম যাচ্ছে। তাই দাম একটু বেশি।

দাম কী আদৌ ‘একটু’ বেশি, নাকি আকাশছোঁয়া এ ব্যাপারে সাধারণ ক্রেতা শফিক আহমেদ বলেন, ‘কোরবানির আগে আমি ডাব কিনেছি ৭০-৮০ টাকায়। আজকে ডাব কিনতে এসে শুনি দাম বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা। এ ক’দিনে ডাবের দাম কী করে দ্বিগুণ হয়ে গেল বুঝতে পারছি না।’

অনেকটা আফসোসের সুরে রেজওয়ান বলেন, বাজারে স্বাভাবিক ফল-সবজি, যেগুলো আগে যে কেউ কিনতে পারত এখন তা বিলাসী খাদ্যদ্রব্যে পরিণত হচ্ছে। চাইলেই আপনি এখন ডাব কিনে খেতে পারবেন না। এক বছর আগেও ডাবের দাম ছিল ৩০-৪০ টাকা। সে দাম রাতারাতি বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা। কদিন পরে দেখা যাবে ২০০ টাকা দরে ডাব কিনতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ডাবের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ সন্তোষজনক নয়। অনেক ক্ষেত্রে পাইকারদের আগ্রীম টাকা দিয়েও মিলছে না ডাব। এতে করে বিক্রেতাদের লাভের টাকা উঠাতে ডাব বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।

হাতিরপুলের ডাব বিক্রেতা মহসীন বলেন, ‘আমি নিজেও এত দামে ডাব বিক্রি করিনি। কিন্তু বাজারের যে অবস্থা, তাতে করে ১৫০ টাকায় ডাব বিক্রি করলেও, লাভ হচ্ছে সামান্য।’

রাজধানী শহরে মূলত ডাবের সিংহভাগ জোগান আসে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলা থেকে। বর্তমানে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এসব জেলা থেকে ডাবের কাঙ্ক্ষিত জোগান আসছে না। এতে করে দেখা দিয়েছে সংকট, বেড়েছে দাম।