ফেসবুক দিয়েই ২০ দিনে মসলা বিক্রি করে ফেরদৌস এখন লাখপতি

| আপডেট :  ৭ জুলাই ২০২২, ০১:৪২ অপরাহ্ণ | প্রকাশিত :  ৭ জুলাই ২০২২, ০১:৪২ অপরাহ্ণ

বাংলা একাত্তর ডেস্কঃ দেশের মানুষ এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভশীল,দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের দিকেই চোখ দিয়ে তাকালেই দেখা যায়। এখন অনলাইনে বিভিন্ন ধরণেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে লাখ লাখ আয় করছেন দেশের হাজার হাজার তরুণ। আজকে প্রতিবেদনে এমনি একজন তরুণী সাজানো যিনি অনলাইনে ২০ দিনেই মসলা মসলা বিক্রি করে লাখপতি।

পবিত্র কুরবানি উপলক্ষে ঘরে বসে ২০ দিনে লক্ষাধিক টাকার মসলা বিক্রি করেছেন রাঙ্গুনিয়ার ফেরদৌস আকতার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে ১২৫ জন গ্রাহকের কাছে তিনি কুরিয়ারে এসব মসলা পাঠিয়েছেন। নিয়মিত গ্রাহক ছাড়া শুধুমাত্র কুরবানি ঈদ উপলক্ষে এসব অর্ডার পেয়েছেন। প্রতি বছর কুরবানি ঈদ উপলক্ষে ফেরদৌসের মসলার চাহিদা থাকে।

তার ব্যবসার শুরু নিয়ে ফেরদৌস আকতার জানান, ২০২০ সালে করোনা সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় ঘরবন্দী ফেরদৌস আকতারের স্বামীর ব্যবসা অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। দুই সন্তান নিয়ে কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না ফেরদৌস। তখন নিজে কিছু করার ভাবনা এল। স্বামী লুৎফুল বারী চৌধুরী পারভেজের সঙ্গে আলাপ করলেন। ফেসবুক গ্রুপ “উই ”(ওম্যান এ্যান্ড ই কমার্স- ফোরাম) এর মাধ্যমে ঘরে বসে দেশীয় মসলার ব্যবসা শুরু করেন ফেরদৌস।

তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাজার থেকে মাত্র ১০ কেজি মরিচ, হলুদ, জিরা ও ধনিয়া কিনেন তিনি। পরে মরিচ শুকানো থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত করা পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়ার ভিডিও গ্রুপে আপলোড দেন। দেয়ার পর ওই দিন ৬ জন মরিচের গুঁড়ার অর্ডার দেন। এরপর থেকে প্রতিদিন মরিচ, হলুদ আর মসলার গুঁড়ার অর্ডার বাড়তে থাকে। ওই মাসে লাখ খানেক টাকার মসলার গুঁড়া বিক্রি হয় তাঁর। পরে তিনি পণ্যের নাম দিলেন “কুক মাসালা”।

লাখপতি তরুণী আরও বলেন, ২০২০ সালের শেষের দিকে তাঁর পণ্যের অর্ডার বাড়তে থাকে। মরিচ, হলুদ আর মসলার গুঁড়ার অর্ডার ডেলিভারি দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। ফেরদৌসকে এ কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন স্বামী পারভেজ। ঘরে বসেই ভালো মানের মরিচ আর নানা রকমের মসলা পাওয়ায় গ্রাহকও বাড়তে থাকে। একবার যিনি অর্ডার করেছেন পণ্যের মান ভালো দেখে একই ব্যক্তির অর্ডার বাড়তে থাকে। অল্প সময়ে জমে ওঠে তাঁর অনলাইন ব্যবসা। তারপর ফেরদৌসের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা গ্রামে পরিবার নিয়ে থাকেন ফেরদৌস।

ফেরদৌস আকতার জানান, পবিত্র কুরবানি ঈদের আগে মসলার অর্ডার বাড়ে। অর্ডার নেয়ার পর সপ্তাহে তিনদিন তিনি পণ্য ডেলিভারি দেন। “কুক মাসালা” নামে এই পণ্যের ব্যবসা ব্যাপক পরিসরে করতে চান তিনি। নিজের ফেসবুক বন্ধু ও ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সারাদেশে নিয়মিত ক্রেতা ৬০০ জনের ওপরে। গত দুই বছরে ১ হাজার ৯১২ জনের কাছে ২০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন ফেরদৌস। এখন প্রতিমাসে গড়ে লাখ টাকার ওপরে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকা।

“দুই বছর আগেও আমার জীবনটা অন্য রকম ছিল। আমার বদলে যাওয়ার পেছনে “উই” গ্রুপের অবদান বেশি। দেশি পণ্যের প্লাটফর্ম উই এর হাত ধরে হাজারো নারী সফলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে গ্রাম থেকে কাজ করে সফলতা পেয়েছি, অনেকেই উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত হচ্ছেন এটা আমার স্বার্থকতা। ” মন্তব্য ফেরদৌস আকতারের।