‘জিয়ার আমলে খাদ্যের অভাবে মানুষ প’তিতালয়ে নাম লিখিয়েছিল’

| আপডেট :  ১৪ জুন ২০২২, ০৮:২৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশিত :  ১৪ জুন ২০২২, ০৮:২৫ অপরাহ্ণ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলে মানুষ খাদ্যের অভাবে প’তিতালয়ে নাম লিখিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সং’সদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সং’সদে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ও’পর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একটি পত্রিকায় দেখলাম লিখেছে, একজন মানুষের খাবারের জন্য নাকি ৫ হাজার ৩৩৯ টাকা মাসে ব্যয় হচ্ছে। দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় চাল, কলা, আটা, মসুর ডাল, খোলা সয়াবিন, দেশি পেঁয়াজ, দেশি রসুন, ব্রয়লার, মুরগি, খাশির মাংস, গরুর মাংস, রুই মাছ, তরল দুধ, গুঁড়া দুধ, ডিম, আলু এগুলো নাকি একজন মানুষ খায়। চারজনের পরিবারের জন্য ৪৭ হাজার ১৮২ টাকা। এটা নাকি মানুষের দৈনন্দিনের খাবার। ১৯৭৯ সালের জিয়াউর রহমানের আমলে মানুষ স’ন্তান বিক্রি করেছে, প’তিতালয়ে নাম লিখিয়েছে এই খাদ্যের অভাবের কারণে। এমন কোনো ঘটনা তো আওয়ামী লীগের আমলে দেখিনি। ব্রিটিশ আমলে যদি খাবারের অভাব থাকে এখন সেটা নাই কেন?

বি’রোধীরা স’রকারের উন্নয়ন-অগ্রগতি দেখে না মন্তব্য করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠালাম, কর্ণফুলি টানেল করলাম, বঙ্গবন্ধু সেতু করেছি, এখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পদ্মা সেতু হচ্ছে। এরকম একটা দেখান।তিনি বলেন, আমাদের মফসলের মানুষ যারা একবার এসে হাতিরঝিল দেখে গেছে, তারা মনে করে বাংলাদেশ বদলে গেলো। ইউরোপ-আমেরিকায় গেলাম কিনা? তারপরও তারা তারা ছিদ্র অন্বেষণ করে!

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রীলঙ্কা কবে হবে, সেটা দেখতে ব্যস্ত হয়ে গেছে আমাদের দেশের বি’রোধী দল। শকুনিরা আকাশে উড়তে উড়তে কোথায় গরু মরবে সেটার যেমন খোঁজ খবর করতে থাকে। এমন করে আমাদের বি’রোধী দলগুলো শুধু অভিসম্পাত করছে আওয়ামী লীগ যেন চলতে না পারে ঠিক মতো। আমাদের মহান নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা একটা দেশকে এগিয়ে নেবার জন্য তার পরিকল্পনা মতো তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৮ সালের বাজেট ছিল ৬৮ হাজার বা ৬৫ হাজার কোটি টাকা। সেই বাজেট এখন ৬ লাখ হাজার কোটি টাকা পার হয়ে গেল। দেশে অগ্রগতি দেখতে পান না কেন? ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল, কোননো আমল দেখি নাই যে, গ্রামের একটা মসজিদের মধ্যে আইয়ুব খান কিংবা, জিন্নাহ ইসলামের নামে মসজিদে একটা টাকা দিয়েছে, এটা দেখি নাই। এখন বাংলাদেশে এমন কোনো মসজিদ-মন্দির আছে যেখানে স’রকারি অনুদান পায় না?

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি নেতারা) বলছেন, এই স’রকারের আমলে কোনো উন্নয়ন হয় নাই, শুধু লু’টপাট। লু’টপাটের খতিয়ান দেখছেন। লু’টপাট বা চু’রি যারা করে তাদের তালিকা দেন। মাঝখানে শুনেছি ১ লাখ হাজার কোটি টাকা আবার কেউ বলছে ৬৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পা’চার হয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রী তাদের কাছে নাম জানতে চান, কারা কারা এই লোক। নাকি হেফাজতের সময় লাখ লাখ লোক মা’রা গিয়েছিল বলে দাবি করেছিল, সেরকম? কোথায় গেলো লা’শ? তখন বলা হলো ইন্ডিয়াতে ফেলছে, ইন্ডিয়াতে তো দেখি নাই। ১ লাখ হাজার কোটি টাকা পা’চার করছে, এরা কারা? এদের নাম কী? যারা বলছেন, তারা কি বলবেন কারা এই লোক?

তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে চাই, জাতি জানতে চায় কারা এই লোক। ৬৮ হাজার কোটি টাকা যদি যেয়ে থাকে তাহলে এই টাকা যে গেলো তাদের কাছে তথ্য আছে? কে কে পা’চার করলো? রাজনীতিবিদ কতজন, আমলা কতজন? আর কে কয়জন তাদের নামগুলো বলেন? বলতে চাচ্ছেন (স’রকার দলীয় এমপিদের কথা উল্লেখ করে) এই দিকে যারা আছে, তারা সেটাই বলেন। নামগুলো জানতে চাই। তারা কারা নাম দেন। এখন পর্যন্ত জানি তারেক জিয়া কোকোর টাকা ফেরত আসছে। আর তো কারো নাম পাইনি। খালেদা জিয়ার এতিমের টাকার কাহিনি শুনেছি আর কারোটা শুনি নাই। আপনারা দেখান, দেখাতে তো পারেন নাই!