চড়-গুলির হুমকি: জানা গেলো মৌসুমীর সঙ্গে কি ঘটেছিল জায়েদের

| আপডেট :  ১৩ জুন ২০২২, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশিত :  ১৩ জুন ২০২২, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ণ

কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলির হুমকি। চড়-গুলির হুমকিতে তোলপাড়। টক অব দ্য কান্ট্রি। এমনি ঘটনা ঘটে গেল গত শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের অন্যতম খল অভিনেতা নোয়ার হোসেন ডিপজলের ছেলে শাদমান মনোয়ার অমি বিয়ের অনুষ্ঠানে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেই জায়েদ খানকে চড় মারেন ওমর সানী। বিতণ্ডার একপর্যায়ে জায়েদ খান কোমর থেকে পিস্তল বের করে ওমর সানীকে গুলি করার হুমকি দেন। তবে, বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান।

এই ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি বরাবর শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন সানী। অনেকের মনে প্রশ্ন কেন এই এই লঙ্কাকাণ্ড? নেপথ্যে কি? সানীর স্ত্রী মৌসুমীর সঙ্গে কি ঘটেছিল জায়েদ খানের?

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানান, কিছুদিন আগে মৌসুমীর সঙ্গে জায়েদ খান খারাপ আচরণ করেন। এ কারণেই অনুষ্ঠানে ঢুকেই ওমর সানী সরাসরি জায়েদ খানকে চড় মারেন। মৌসুমীকে কেন বিরক্ত করেছেন তাও জানতে চান? মৌসুমীকে কী ধরনের ডিস্টার্ব করেছেন জায়েদ খান? গতকাল এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিস্তারিত বলতে চাইলেন না ওমর সানী। (মানবজমিনের প্রতিবেদন)।

সানী আরও বলেন, আমি এত কিছু বিস্তারিত বলতে পারবো না। আমাদের একটা ফ্যামিলি স্ট্যাটাস আছে। আমার ৩১ বছরের ক্যারিয়ার। ২৭ বছরের বিবাহিত জীবন। আমরা একটা সম্মান নিয়ে চলি সমাজে। আমাদেরকে সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখে। জায়েদ খান অনেকদিন ধরে মৌসুমীর সঙ্গে বেয়াদবি করে আসছিল। ডিপজল ভাইয়ের কাছে বিচার দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। তাই চড় মেরেছি। চড় মারার পর পিস্তল তাক করেছিল। আমি বলে দিয়েছিলাম। গুলি করবা, করো। কোনো সমস্যা নাই। এমন ঘটনার পর জায়েদ খানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিবেন কিনা?

তিনি বলেন, না, মামলা করবো না। কারণ আমরা মামলাবাজ মানুষ না। এ ধরনের কোনো চিন্তাভাবনাও নেই। কথায় কথায় মানুষকে হুমকি ধামকি দেয়া, মামলা করা এরকম কোনো রেকর্ড আমাদের নেই। এমনকি আমার পরিবারের কেউ কখনো কারও বিরুদ্ধে মামলা করেনি।

জায়েদ খান বলেছেন, ওমর সানী স্বাভাবিক ছিল না, সেরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার কাছে পিস্তলই ছিল না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এরকম অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। মৌসুমী আপা সিনিয়র মানুষ। আমি তাকে কেন ডিস্টার্ব করবো। মনগড়া কথা বললে তো হবে না। আমি এ ব্যাপারে মৌসুমী আপার সঙ্গে কথা বলবো।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সেটা এখনো চলমান। সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে শুনানি আছে। তাই আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্যই এসব বলা হচ্ছে।

ডিপজল বলেন, গত কিছুদিন ধরে আমার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কেটেছে। বিয়েতে আমার সহকর্মীসহ অনেক অতিথি এসেছেন। পত্রিকায় দেখলাম, কোনো এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আমার কথা ছেপেছে। আসলে বিষয়টি আমি জানিই না। জানার কোনো কারণও নেই। শত শত অতিথিকে অভ্যর্থনা জানানো এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় নিয়ে আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে এমন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে বলে কোনো ভদ্রলোকও বিশ্বাস করবে না। আরও অনেক গণ্যমান্য অতিথিদের সঙ্গে ওমর সানী ও জায়েদকে আমিই অনুষ্ঠানে অভ্যর্থনা জানিয়েছি। যদি ধরেও নিই, তাদের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য রয়েছে, তাহলে কি তারা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে এমন ঘটনা ঘটাবে? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?