সোমবার, ২৭ Jun ২০২২, ০২:১৯ অপরাহ্ন

খুলনা থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪ ঘন্টা!

খুলনা থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪ ঘন্টা!

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী ২৫ জুন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি সড়ক পথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের দ্বার উন্মোচিত হবে।পদ্মা সেতু চালু হলে খুলনা থেকে ঢাকার যাতায়াতের সময় তিন ঘণ্টা কমে আসবে। মাত্র চার ঘণ্টায় খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকায় যাওয়া যাবে।

২৫ জুন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধন করবেন। এই সেতু ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন।এতে একদিকে যেমন দক্ষিণ অঞ্চলের ভোগান্তি কমবে, তেমনি যাত্রার ব্যয়ও সাশ্রয় হবে। সব মিলিয়ে সুফল পাবে খুলনাসহ ২১ জেলার মানুষ।

সেতু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন মাওয়া-জাজিরায় পদ্মা নদী পাড়ি দিতে ফেরিতে দেড় থেকে তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগে। আর আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটেও যাত্রীদের সময় নষ্ট হয়। সমস্যা হলো, ঘাটে গিয়েই ফেরিতে ওঠার নিশ্চয়তা নেই। কখনো কখনো সারা দিন-রাত ঘাটে বসে থাকতে হয় ফেরিতে উঠতে। পদ্মা সেতু চালু হলে এ সময় বাঁচবে। সহজ হবে যোগাযোগ। বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ আসলাম আলী বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে খুলনা থেকে ঢাকা যেতে সময় সাশ্রয় হবে। এখন ঢাকায় যেতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। ফেরি পারাপারের ওপর নির্ভর করে কত সময় লাগবে। ফেরিতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। সেতু চালু হলে টোল দিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে পদ্মা নদী পার হওয়া যাবে। সে হিসেবে মাত্র চার ঘণ্টায় ঢাকায় যাওয়া যাবে।

এদিকে, সরকার পদ্মা সেতু উদ্বোধন ঘোষণার তারিখ জানানোর পর থেকেই যেন আর তর সইছে না খুলনাসহ ২১ জেলার মানুষের। কবে যাবো পদ্মা সেতু দিয়ে এই স্বপ্নে সবাই বিভোর।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. সামিউল হক বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে। পদ্মা সেতুর সুযোগ-সুবিধা সবার আগে পাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। পদ্মা পার হওয়ার সময়, ঘাটে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যাত্রীদের। পদ্মা সেতু চালু হলে সে বিড়ম্বনা থেকে চিরতরের জন্য মুক্তি পাবেন যাত্রীরা।

তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহত্তম এ সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীসহ অন্যান্য অংশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। স্বপ্নের এ সেতু দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার গতিশীলতা বাড়াবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ের মধ্যে পণ্য পরিবহন করে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে রফতানি ও আমদানি করতে উৎসাহিত হবেন।

দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিমায়িত মৎস্য ও পাটশিল্প, যার অধিকাংশ খুলনা থেকে রফতানি হয়। পদ্মা সেতু হলে এ আয় আরও বাড়বে বলে আশাবাদী সেতু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2022 banglaekattor.com