কবিরাজের কথায় ‘হারানো যৌবন ফিরে পেতে’ খু’ন করে পু’রুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও চোখ নিয়ে যান যুবক

| আপডেট :  ২ জুন ২০২২, ০৯:৩২ অপরাহ্ণ | প্রকাশিত :  ২ জুন ২০২২, ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজে’লার বাসিন্দা লিটন মালিথা (৪০)। দাম্পত্যজীবনে অসুখী ছিলেন তিনি। এর সমাধান পেতে কথিত কবিরাজ আব্দুল বারেকের (৬৩) দ্বারস্থ হন লিটন। ওই কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও কোনো কাজ না হওয়ায় হা’রানো যৌবন ফিরে পেতে কবিরাজ তাকে কারও পু’রুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও চোখের মণি জোগাড় করতে বলেন।

কবিরাজের কথায় নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে কৃষিশ্র’মিক হিসেবে কাজ নিয়ে যশোরের বাঘারপাড়ায় অবস্থান নেন লিটন। সেখানে গিয়ে আরেক কৃষিশ্র’মিক নকিম উদ্দীনকে (৬০) হ’’ত্যার তার পু’রুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ নিয়ে যান। বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান যশোরের যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, এ ঘটনায় যশোর ডি’বি পুলিশের ওসি রুপন কুমার স’রকার, ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম ও এসআই মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত মঙ্গলবার (৩১ মে) চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজে’লা থেকে কবিরাজ আব্দুল বারেক ও বুধবার (১ জুন) মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজে’লার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী এলাকা থেকে লিটন মালিথাকে গ্রে’প্তার করে। এ সময় লিটন মালিথার কাছ থেকে কে’টে নেওয়া অঙ্গগুলো উ’দ্ধার করা হয়েছে। কবিরাজ আব্দুল বারেক চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজে’লার মোজাম্মেল হকের ছেলে। আর লিটন মালিথা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মোহাম্ম’দ জুমা গ্রামের হানিফ মালিতার ছেলে।

সাইফুল ইসলাম জানান, যশোরের বাঘারপাড়ায় উপজে’লার ছাতিয়ানতলা গ্রামে গত ২৬ মে ধান কা’টার জন্য শ্র’মিক হিসেবে নকিম উদ্দীনসহ তিনজনকে বাড়িতে নিয়ে যান পাইকপাড়া গ্রামের মৃ’ত ইবাদ মোল্লার ছেলে বেনজির আহম্মেদ (৪২)। এর মধ্যে গত রোববার (২৯ মে) বিকেলে পারিশ্র’মিকের টাকা বুঝে নিয়ে একজন চলে যান। লিটন মালিথা ও নকিম উদ্দীন রাতে খাবার খেয়ে এক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাড়ির মালিক বেনজির আহম্মেদ পরদিন সোমবার সকাল ৬টায় শ্র’মিকদের ডাক দিলে বাইরে থেকে দরজা খোলা দেখতে পান। দরজা খোলা দেখে তিনি ভেতরে গিয়ে দেখেন জ’খম অবস্থায় কৃষক নকিম উদ্দীনের ম’রদেহ খাটের ও’পর পড়ে আছে।

তিনি জানান, লিটন দীর্ঘদিন ধরে যৌ’নরো’গে ভুগছিলেন। পরে স্থানীয় কবিরাজ আব্দুল বারেকের শরণাপন্ন হন তিনি। কবিরাজ তাকে যে কোনো একটি পু’রুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ উপড়ে নিয়ে আসলে হা’রানো যৌবন ফিরে পাবেন বলে জানান। সেই থেকে লিটন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ধান কা’টার শ্র’মিক সেজে যশোরের বাঘারপাড়া উপজে’লার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কাজ নেন। সুযোগ বুঝে কবিরাজের দেওয়া ‘মহা ও’ষুধের’ উপকরণ যোগাড় করতে নকিম উদ্দীন নামে এই শ্র’মিককে খু’ন করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পা’লিয়ে চলে যান মানিকগঞ্জ। বি’ষয়টি নিয়ে বাঘারপাড়া থানায় মঙ্গলবার (৩১ মে) মা’মলা করা হয়। আলোচিত এ ঘটনার র’হস্য উদ্ঘাটন করতে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নির্দেশে মাঠে নামে যশোর ডি’বি পুলিশ।

লিটন মালিথা গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ধান কা’টার শ্র’মিক সেজে আসেন। সেই শ্র’মিকের হাট থেকে ঘিওর উপজে’লার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী গ্রামের জনৈক কৃষক জিতু তাকে ধান কা’টার কাজে বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজে’লার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী এলাকা থেকে ডি’বি পুলিশের একজন সদস্য ধান কা’টার শ্র’মিক সেজে ধান কা’টার কাজ করা অবস্থায় তার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে ঘিওর থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রে’প্তার করে যশোর ডি’বি পুলিশের একটি চৌকস দল। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার ও বুধবার অ’ভিযান চা’লিয়ে তাদেরকে গ্রে’প্তার করে যশোর ডি’বি পুলিশ। এ সময় আ’টক লিটন মালিথার কাছ থেকে খু’ন হওয়া ব্যক্তির পু’রুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ উ’দ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে যশোরের বাঘারপাড়ায় উপজে’লার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কৃষি শ্র’মিক নকিম উদ্দীনকে হ’’ত্যা করা হয়। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে ম’রদেহ ও আলামত হিসেবে হ’’ত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উ’দ্ধার করে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। নি’হত নকিম উদ্দীন বাঘারপাড়া উপজে’লার ধুপখালী গ্রামের মৃ’ত দলিলুদ্দিন মোল্লার ছেলে।