মঙ্গলবার, ২৮ Jun ২০২২, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

উদ্বোধনের আগেই সেতু পার হলো বরযাত্রীর গাড়ি বহর, স্থানীয়রা হতবাক!

উদ্বোধনের আগেই সেতু পার হলো বরযাত্রীর গাড়ি বহর, স্থানীয়রা হতবাক!

প্রায় শেষের পথে পিরোজপুরের কচা নদীর ওপর বেকুটিয়া পয়েন্টে নির্মিত অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর কাজ। তবে নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো সেতু সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে হস্তান্তর করেনি। এরইমধ্যে সেতু দিয়ে বরযাত্রীবাহী দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও একটি বাস চলাচলের অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে বরযাত্রীর গাড়িবহর সেতু পাড়ি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুর পূর্ব প্রান্ত কাউখালী উপজেলার বেকুটিয়া থেকে বরযাত্রীবাহী দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও একটি বাস সেতু পার হয়ে পশ্চিম প্রান্তে চলে এসেছে। সেখানে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার পর সেতুর ওপর থাকা ব্যারিকেট সরিয়ে বরযাত্রীরা চলে যান। ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে এক ব্যক্তি বলছেন, এ গাড়ি উঠে এলো ক্যামনে? আরেক জন বলছেন, ‘ও পাশ খোলা মনে হয়।’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।

এ প্রসঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থী পিরোজপুর সদরের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে গেছিলাম। তখনই দেখছিলাম নিয়মকানুন শুধু সাধারণ মানুষের জন্য। কিছু লোক অনায়াসে বাইক নিয়ে, গাড়ি নিয়ে সেতু পার হয়।সেতু এলাকায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, গত বুধবার দুপুরে বরযাত্রীবাহী গাড়ি সেতু পার হয়। সেতুর দুই প্রান্তে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের চৌকি রয়েছে। এরমধ্যে দিয়ে গাড়িগুলো সেতু পাড়ি দেয়।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, গতকাল বিকেলে তিনি ঘটনাটি শুনে সেতু এলাকায় গিয়ে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে জানতে চেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদের কে যেন ফোন দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছেন।

সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহামুদ বলেন, সেতুটি চীন সরকার এখনো সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেনি। তবে বিষয়টি শুনে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন যেন সেতুতে না ওঠে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ১৭ ব্যুরো গ্রুপ লিমিটেড বাস্তবায়ন করেছে। ইতিমধ্যে সেতুর ৯৬ ভাগ কাজ শেষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে চীন সরকারের প্রতিনিধিদল সেতুর কাজ বুঝে নিচ্ছে। আগামী ২০ জুনের মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে সেতুটি হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। এরপর উদ্বোধন করা হবে।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2022 banglaekattor.com