মঙ্গলবার, ২৮ Jun ২০২২, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

ছয়টি ‘হাঁস মারা’ এবং মুশফিক-লিটনের শতকে যত রেকর্ড বাংলাদেশের

ছয়টি ‘হাঁস মারা’ এবং মুশফিক-লিটনের শতকে যত রেকর্ড বাংলাদেশের

মাহমুদুল হাসান জয়, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন – বাংলাদেশের এক ইনিংসে মোট ছয়জন ব্যাটসম্যান শূন্য রান করে আউট হয়েছেন যা টেস্ট ক্রিকেটে একটি বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছে।

টেস্ট ম্যাচের এক ইনিংসে এর চাইতে বেশি ব্যাটসম্যান শূন্য রানে আউট হয়নি কখনো।আবার একইসাথে এক ইনিংসে ছয়জন ব্যাটসম্যান শূন্য করে আউট হওয়ার পরেও সবচেয়ে বেশি রান তোলার রেকর্ডও এখন বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনের সকালেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল।চব্বিশ রানের মাথায় পাঁচ উইকেট হারিয়েছিল দলটি।এই পাঁচজনের মধ্যে জয়, তামিম ও সাকিব কোনও রান করতে পারেননি।সাকিব আল হাসানেরটা ছিল বিশেষ, এক বলেই আউট। যাকে বলা হয় গোল্ডেন ডাক।

দ্বিতীয় দিন সকালে লিটন কুমার দাস ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪১ রানের ইনিংস খেলে আউট হওয়ার পর নামেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।তিনিও চার বল খেলে কোনও রান না করে আউট হয়ে যান।এরপর সৈয়দ খালেদ আহমেদ দুই বল খেলে কোনও রান না করে আউট হন।এবং শেষ উইকেট হিসেবে ইবাদতও কুড়িটি বল খেলে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান কোনও রান না করে। মঙ্গলবার অবশেষে ৩৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

সমান ছয়টি ডাক অর্থাৎ এক ইনিংসে ছয়জন ব্যাটসম্যান কোনও রান না করে আউট হয়েছেন এমন ঘটনা এর আগে পাঁচবার ঘটেছে।এর মধ্যে বাংলাদেশ দুবার।ঢাকাতেই ২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ছয়জন ব্যাটসম্যান কোনও রান না করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন।

প্রথমবার ১৯৮০ সালে পাকিস্তান – করাচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৬ সালে ভারতের বিপক্ষে আহমেদাবাদে।ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত ২০১৪ সালে এক ইনিংসে ছয় ব্যাটসম্যানের শূন্য রান দেখে।দুবাইয়ে নিউজিল্যান্ড পাকিস্তানের বিপক্ষে এই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিল ২০১৮ সালে।

আর এবার বাংলাদেশ আরও একবার ঢাকার মাঠে এমন এক ইনিংস খেললো যেখানে ছয়জনের নামের পাশে কোনও রান নেই।তবে এই টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে ও বিপক্ষে দুই ধরনের রেকর্ডই আছে।

লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম ২

টন দাস ও মুশফিকুর রহিম ২

যেমন সোমবার ২৪ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম রেকর্ড ভাঙ্গা এক জুটি গড়েন।লিটন দাস ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪১ রান তুলে আউট হন, মুশফিকুর রহিম শেষ পর্যন্ত ১৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

মুশফিক এ নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচবার দেড়শো বা তার চেয়ে বেশি রান তুলেছেন।বাংলাদেশের ক্রিকেট পর্যবেক্ষক তৌসিয়া ইসলাম বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, দেখে মনে হচ্ছিল খুব সাবলীলভাবে ব্যাট করেছেন এই দুজন। কখনোই চাপে মনে হয়নি।

দুইশ বাহাত্তর রানের জুটি গড়ে বেশ কয়েকটি রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন লিটন ও মুশফিক।পঁচিশ রান বা তার নিচে যেসব দল পাঁচ উইকেট হারিয়েছে সেই হিসেবে এটা টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বড় জুটি গড়েছেন লিটন ও মুশফিকুর রহিম।শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটি।এমনকি লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের পার্টনারশিপ বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই দুজন জুটি গড়ে ১৬ ইনিংসে ১১৫৪ রান তুলেছেন।গড়ে ৭২ রান তুলেছে এই জুটি যার মধ্যে চারবার শতরানের জুটি গড়েছেন, এবং চারবার অর্ধশত রানের জুটি গড়েন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহমান।বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল জুটি সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। এই দুজন ১৭ বার ৫০ রানের জুটি গড়েছেন। সূত্রঃ বিবিসি

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2022 banglaekattor.com