দুর্নীতির টাকায় স্ত্রী-শ্যালকের নামে সম্পদের পাহাড় গরে এখন ফেরারি ইকবাল - বাংলা একাত্তর দুর্নীতির টাকায় স্ত্রী-শ্যালকের নামে সম্পদের পাহাড় গরে এখন ফেরারি ইকবাল - বাংলা একাত্তর

রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতির টাকায় স্ত্রী-শ্যালকের নামে সম্পদের পাহাড় গরে এখন ফেরারি ইকবাল

দুর্নীতির টাকায় স্ত্রী-শ্যালকের নামে সম্পদের পাহাড় গরে এখন ফেরারি ইকবাল

পাঁচ বছরে ৫০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন খন্দকার মোহাম্ম’দ ইকবাল। স্ত্রী হালিমা ও শ্যালক জামসেদের নামে-বেনামে এই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। কাগজে-কলমে দুদক ৫০ কোটি টাকা পেলেও দু’র্নীতির মাধ্যমে এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা কামিয়েছেন ইকবাল। সীমাহীন দু’র্নীতির কারণে শেষ রক্ষা হয়নি ইকবালের। স্ত্রী, শ্যালকসহ হয়েছেন দুদকের আ’সামি। এখন ফেরারি জীবন তাদের। ইকবাল এই দু’র্নীতি করেছেন বর্তমান স’রকারের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার অগ্রাধিকার প্রকল্প শাহ্‌জালাল ফার্টিলাইজার ফ্যক্টরির হিসেব বিভাগের প্রধান থাকাকালে। দম্ভোক্তি ছিল ইকবালের।

যারাই তার দু’র্নীতির বি’রুদ্ধে মুখ খুলেছে তাদের নানাভাবে নাজেহাল করা হয়েছে। তখন ম’ন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এমপিসহ সবার নজরে ছিলেন ইকবাল। তবে- দুদকের নজর পড়ার পর থেকে ইকবাল, তার স্ত্রী এবং সিন্ডিকে’টের ১৮ সদস্যের বি’রুদ্ধে ২৬টি মা’মলা করা হয়েছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহ্‌জালাল ফার্টিলাইজার ফ্যক্টরি। স্বপ্নের একটি প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই এ প্রকল্প বাস্তয়ন হলে প্রায় তিন বছরের অধিক সময় ধরে উৎপাদনে রয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত এই প্রতিষ্ঠান।

শাহ্‌জালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পটি দীর্ঘ ১৪ বছর শুধু সাইনবোর্ডে আ’টকা ছিল। সিলেটের মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ স’রকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগী হয়। সব ঝামেলা এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২৪শে মার্চ ফেঞ্চুগঞ্জ এসে শাহ্‌জালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পটি ৪০ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন হয়ে যায়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের মেসার্স কমপ্লান্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। ওই প্রকল্পে বাংলাদেশ স’রকারের বিনিয়োগ ছিল ১৪শ’ কোটি টাকা। বাকি অর্থ প্রদান করে চীন স’রকার।

তবে- প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরুর এক বছর পরই উল্লেখিত প্রকল্পকে ঘিরে একটি অ’সাধু চ’ক্র গড়ে ওঠে। যারা স’রকারের ওই প্রকল্প থেকে বে’পরোয়া লু’টপাট চা’লায়। তাদের দৌরাত্ম্য এতটা শক্ত ভিতের উপর ছিল যে কোনো কিছুরই তোয়াক্কা তারা করতো না। যার নজির তারা শাহ্‌জালাল সারকারখানার বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণকালে রেখে গেছে। ১৬৫ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা শাহ্‌জালাল সার কারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দু’র্নীতির অভিয়োগ রয়েছে। ২০১৫ সালের শুরুর দিকের কথা।

খন্দকার ইকবাল শাহ্‌জালাল ফার্টিলাইজার ফ্যক্টরির প্রকল্পের হিসাব বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। প্রকল্পের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে এই পদটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মোট সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা কাজের মধ্যে স’রকারের তরফ থেকে দেয়া হয়েছে ১৪০০ কোটি টাকা। আর বাকি টাকা চীনের দেয়া। তবে- বাংলাদেশ স’রকারের দেয়া ১৪০০ কোটি টাকায় ফ্যক্টরির আবাসন, শিক্ষা, স্বা’স্থ্য, যোগাযোগ খাতে ব্যয় করা হয়। আর ওই টাকাতেই সীমাহীন দু’র্নীতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা জানিয়েছেন, খন্দকার ইকবাল ফেঞ্চুগঞ্জের প্রকল্পে যোগ দিয়েই ধান্ধা শুরু করেন। স্ত্রী হালিমা আক্তার, শ্যালক জামসেদের নামে একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স চালু করেন। এসব লাইসেন্সের কার্যালয়ের ঠিকানা হয় ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর ইকবালের বাসা। ওই বাসাতে বসে ভুয়া প্রকল্প দিয়ে ৫০ কোটি টাকা লু’ট করেছেন। দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমাদের ত’দন্ত এখনো শেষ হয়নি। ত’দন্ত শেষে হয়তো টাকার পরিমাণ দিগুণ হতে পারে।

এদিকে, দুদক সিলেটের উপ-পরিচালক নুর ই আলম বা’দী হয়ে শাহ্‌জালাল ফাটিলাইজার প্রকল্পের কর্মকর্তা ঠিকাদারসহ ১৮ জনের বি’রুদ্ধে সিলেটের স্পেশাল জজ আ’দালতে ২৬টি মা’মলা করেছে। এরমধ্যে ২০২১ সালের আগস্টে ১৫টি এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১১টি মা’মলা করা হয়। ১৪ই ফেব্রুয়ারির মা’মলার এজাহারে দুদক কর্মকর্তা জানান, প্র’তারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অ’পরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অ’পব্যবহারে করে ভুয়া বিল ভাউচার ও কোনোটিতে বিল ভাউচার ছাড়াই ৭১টি চেকের মাধ্যমে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের বিভিন্ন তারিখে শাহ্‌জালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অনুকূলে জনতা ব্যাংক লিমিটেড কর্পোরেট শাখা দিলকুশা, ঢাকায় পরিচালিত হিসাব নম্বর ০০০০০৩৯৩৩০০৯৫৯৮ ও ০০০০০৩৬০০১১৭২ থেকে উত্তোলন করা হয় ১৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৬ টাকা।

দ’ণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সনের দু’র্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মা’মলাগুলো করা হয়। দুদকের মা’মলায় যাদেরকে আ’সামি করা হয়েছে তারা হলেন- শাহ্‌জালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরির হিসেব বিভাগীয় প্রধান (বর্তমানে চাকরি থেকে ব’রখাস্তকৃত) খোন্দকার মুহাম্ম’দ ইকবাল। তার মূল বাড়ি ফেনীর পরশুরামের ধনীকণ্ডা গ্রামে হলেও রাজধানী ঢাকার ৮৬/৪ সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকায় তিনি বসবাস করেন।

তিনিই হচ্ছেন এই লু’টপাট ও দু’র্নীতির প্রধান হোতা। এছাড়া- মা’মলার আ’সামি করা হয় ইকবালের শ্যালক মো. জামশেদুর রহমান খন্দকার। তিনি হচ্ছেন মেসার্স ডেফোডিলস ইন্ডারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী। ওই কোম্পানির সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে ভুয়া বিলে। ইকবালের স্ত্রী মোছাম্মাৎ হালিমা আক্তার। তিনি হচ্ছেন মেসার্স নুসরাত ট্রেডার্স, ঠিকানা ৮৬/৪ সিদ্ধেশ্বরী, রমনা, ঢাকা; এই কোম্পানির স্বত্বাধিকারী। এই কোম্পানির নামে ভুয়া বিলে কোটি কোটি টাকা আ’ত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্প ছিল কাগজে কলমে আর বিল চলে যেতো তাদের অ্যাকাউন্টে।

এছাড়া মা’মলায় আ’সামি করা হয় শাহ্‌জালাল ফাটিলাইজার প্রকল্পের রসায়নবিদ (বর্তমানে ব’রখাস্তকৃত) নেছার উদ্দিন আহম’দ, পিতা গিয়াস উদ্দিন আহম’দ সাং পূর্ব চ’রমেহার, ডাকঘর বিবিরহাট, থানা রামগতি জে’লা লক্ষীপুর। বর্তমান ঠিকানা হাউস নং-২/বি, ২য় তলা, রোড নং ১০/বি, সেক্টর নং ১১, উত্তরা ঢাকা। মো. হেলাল উদ্দিন প্রো. মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, সাং- পুরুষোত্তমপুর, ডাক সোমপাড়া, থানা চাটখিল, জে’লা নোয়াখালী, পিতা মৃ’ত গোলাম জিলানী। বর্তমান ঠিকানা হাউস নং-২২, রোড নং-ডি সেকশন ৭ আরামবাগ হাউজিং, থানা মিরপুর, ডিএমপি, ঢাকা। মাসুদ রানা, প্রো. সানশাইন আইটি সল্যুশন। ঠিকানা মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার, লেভেল ৮, দোকান নং ৮৬১, মিরপুর, ঢাকা, পিতা মো. মফিজ উল্লাহ সাং ৬৯/৭১ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।

এর আগে ২০২১ সালের ৪ঠা আগস্ট খোন্দকার ইকবাল তার স্ত্রী হালিমা আক্তার, শ্যালক জামশেদুর রহমানসহ ওই চ’ক্রটির বি’রুদ্ধে ৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আ’ত্মসাতের ঘটনায় আরও ১৫টি মা’মলা করেছে দুদক। মোট ৫২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা আ’ত্মসাৎ করেছে খোন্দকার ইকবাল চ’ক্র। এ ব্যাপারে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের সাবেক হিসাব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান খোন্দকার মুহাম্ম’দ ইকবালের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

সিলেট জে’লা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নুর ই আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক ত’দন্তে খোন্দকার ইকবাল, তার স্ত্রী হালিমা আক্তার, শ্যালক জামশেদুর রহমানসহ চ’ক্রটির বি’রুদ্ধে অর্থ আ’ত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিপুল অ’বৈধ সম্পদের সন্ধানও পেয়েছেন বলে জানান। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়; শাহ্‌জালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পে বাংলাদেশ স’রকারের বিনিয়োগকৃত ১৪শ’ কোটি টাকার মধ্যেই বেশীরভাগ দু’র্নীতি,অনিয়ম করা হয়েছে। দুদক এখনো ত’দন্তে রয়েছে বলে জানান তিনি।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com