এমপি’র মেয়ে পরিচয়ে খুলে বসেছিলেন ভয়ঙ্কর প্র’তারণার দোকান - বাংলা একাত্তর এমপি’র মেয়ে পরিচয়ে খুলে বসেছিলেন ভয়ঙ্কর প্র’তারণার দোকান - বাংলা একাত্তর

মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্রেকিং নিউজঃ মুশফিক লিটনকে অবিশ্বাস্য সম্মাননা দিল আইসিসি কান উৎসবে দীপিকার নেকলেসে লেখা ‘ফি-আমানিল্লাহ’! প্যারিসে ইমরানের কণসার্টে অশান্তির ঝড়, গান না করেই ছাড়তে হলো স্টেজ স্ত্রীর বড় বোনকে শয্যাশায়ী করে ভিডিও ধারন, ছোট বোনের জামাই গ্রেফতার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের হাতে আলাদীনের চেরাগ, বাড়ি গাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরির পর যে স্ট্যাটাস দিলেন মুশফিকের স্ত্রী যত খুশি ডলার আনা যাবে, লাগবেনা জবাবদিহিতা যানচলাচলের জন্য প্রস্তুত স্বপ্নের পদ্মা সেতু কাপাসিয়ায় দুই বেকারির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা
এমপি’র মেয়ে পরিচয়ে খুলে বসেছিলেন ভয়ঙ্কর প্র’তারণার দোকান

এমপি’র মেয়ে পরিচয়ে খুলে বসেছিলেন ভয়ঙ্কর প্র’তারণার দোকান

রেজওয়ানা চৌধুরী বৃষ্টি। কখনো সোহা চৌধুরী নামেও নিজেকে পরিচয় দেন ত্রিশোর্ধ্ব এই নারী। তার মায়ের নাম কেয়া চৌধুরী। এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও তিনি কখনো এমপি ছিলেন না। বর্তমানে নেই তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। কিন্তু মায়ের নামের সঙ্গে মিলের কারণে নিজেকে সাবেক একজন এমপি’র মেয়ে পরিচয় দিয়ে খুলে বসেছিলেন ভ’য়ঙ্কর প্র’তারণার দোকান।

বিভিন্ন অনলাইনের মাধ্যমে মোবাইল বিক্রেতা, কাপড় বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা, ভাঙাড়িওয়ালা থেকে শুরু করে প্রত্যেকের সঙ্গে প্র’তারণার অ’ভিযোগ উঠেছে তাদের বি’রুদ্ধে। সম্প্রতি এ ঘটনায় একাধিক মা’মলা হলে প্র’তারক বৃষ্টি পুলিশি হেফাজতে জি’জ্ঞাসাবাদে এমনই ভ’য়ঙ্কর প্র’তারণার ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন।এ ঘটনায় প্র’তারণার শি’কার একাধিক ব্যক্তির অ’ভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ই এপ্রিল রাজধানীর আদাবর থানায় একটি প্র’তারণার মা’মলা করেন ভু’ক্তভোগী এক ব্যক্তি।

সরেজমিন আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিংয়ের ১১ নম্বর রোডের ৬৯৫/১৪ নম্বর দোতলা ভবনটির দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। মূলত এই বাসাটিতে বসেই চলে তাদের প্র’তারণার কারবার। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এরা পুরো পরিবারই প্র’তারক। তাদের প্র’তারণার হাত থেকে রেহাই পায়নি এলাকার সাধারণ মানুষও। ভু’ক্তভোগী এক মাছ বিক্রেতা তার প্র’তারণা সম্পর্কে বলেন, গত দুই মাস আগে একটি অনুষ্ঠানের কথা বলে মুঠোফোনে বৃষ্টি জানায়- তারা কিছু মাছের অর্ডার দিতে চায়। কিছু তাজা মাছ তাদেরকে সরবরাহ করতে হবে।

এ সময় নিজেকে কখনো এমপির মেয়ে এবং কখনো স’চিবের ও কাউন্সিলরের ভাতিজি পরিচয় দেয়। এবং আদাবরে তাদের অনেকগুলো বাড়ি রয়েছে বলে জানায়। তার কথায় প্রলুব্ধ হয়ে পরদিন যখন মাছের টাকা আনতে বাসায় যাওয়ার পথে প্র’তারক বৃষ্টি মাছ বিক্রেতাকে কিছু কাঁচা বাজার বাসায় নিয়ে আসতে অনুরোধ করে। এ সময় মাছ বিক্রেতা ৯ হাজার টাকার বাজার করে নিয়ে আসলে তাকে বাসার দ্বিতীয় তলায় উঠতে বলে।

এ সময় মাছের এবং কাঁচাবাজারের টাকা চাইলে অ’ভিযুক্ত প্র’তারক কেয়া চৌধুরী, তার মেয়ে বৃষ্টি ও তাদের বাসার কাজের মেয়ে কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেয়। বলে, তুই আমার বাসার কাজের মেয়ের শরীরে হাত দিয়েছিস। এ সময় তার কাছে উল্টো এক লাখ টাকা দাবি করে এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভ’য়ভীতি দেখাতে শুরু করে। এ সময় লা’ঠি, ছু’রিসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে মা’রতে আসে। পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা তুলে এনে প্র’তারক কেয়া চৌধুরী এবং বৃষ্টিকে দিলে সেখান থেকে ছাড়া পান ওই ব্যক্তি।

সেখানে থাকা অবস্থায় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে ফোন কেড়ে নিয়ে তার বি’রুদ্ধে নারী নি’র্যাতন মা’মলার ভ’য় দেখায়। এ সময় কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পরবর্তীতে তার নামে একটি প্র’তারণার মা’মলা করেন। একইভাবে প্র’তারণার শি’কার হয়েছেন একজন তরুণ মোবাইল ক্রেতা।

অনলাইনে কেয়া চৌধুরী এবং বৃষ্টি মোবাইল ল্যাপটপ বিক্রি করবে বলে একটি পোস্ট দেয়। এ সময় ভু’ক্তভোগী তরুণ পুরাতন ল্যাপটপ, ফোন ক্রয় করতে আগ্রহী বললে তখন ১০ হাজার টাকায় বিক্রয় করার কথা চূড়ান্ত হয়। এ সময় তারা আদাবরের বাসায় ল্যাপটপ এবং পুরোনো ফোন নিতে গেলে প্রথমে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাসার দ্বিতীয় তলায় চলে যায়। এভাবে রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর টাকা এবং ফোন কোনোটাই না দিতে কালক্ষেপণ করে এবং হে’নস্তার চেষ্টা করে। এ সময় সেখান থেকে বেরিয়ে ৯৯৯-এ ফোন দেয়ার পর পুলিশ প্র’তারক বৃষ্টিকে গ্রে’প্তার করলেও তার মা কেয়াকে গ্রে’প্তার করতে পারেনি।

এই ঘটনার পর থেকেই প’লাতক রয়েছে বৃষ্টির মা কথিত এমপি কেয়া চৌধুরী। ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্র’তারক কেয়া বিদেশে পড়ালেখা করেছে বলে দাবি করে। আদাবরের বাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মা-মেয়ের প্র’তারণার কাজ চলছে। প্র’তারক বৃষ্টির দুই ভাই একই বাসায় থাকলেও প্র’তারণার বি’ষয়টি জেনেও তারা এ বি’ষয়ে কোনো প্র’তিবাদ করেন না। প্র’তারক বৃষ্টি নিজেকে এমপির মেয়ে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, স’চিব, আমলার আত্মীয় বলে বিভিন্ন সময় দাবি করেন।

মাছ, মিষ্টি, কাপড়, ভাঙারিসহ বিভিন্ন জিনিসের অর্ডার দিয়ে কৌশলে বাসায় নিয়ে আসার পর টাকা তো দেয় না বরং তাদেরকে জি’ম্মি করে বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। জানা গেছে, প্র’তারণায় অ’ভিযুক্ত রেজওয়ানা চৌধুরীর মা কেয়া চৌধুরী এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও বর্তমানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় নন। এছাড়া তিনি কখনো এমপি ছিলেন না। এ বি’ষয়ে জানতে তাকে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা আদাবার থানার উপ-পরিদর্শক মো. বাসার বলেন, প্র’তারক মা এবং মেয়ের বি’রুদ্ধে একাধিক প্র’তারণার মা’মলা রয়েছে। গত দুই মাস আগে দুটি এবং সম্প্রতি প্র’তারণার অ’ভিযোগে আরও একটি মা’মলা হয়েছে। পুলিশি হেফাজাতে জি’জ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে মা-মেয়ের প্র’তারণার ভ’য়ঙ্কর চিত্র। প্র’তারক বৃষ্টির মা কথিক সং’সদ সদস্য কেয়া চৌধুরী এ ঘটনায় প’লাতক রয়েছেন।

ওদিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিজের নাম জড়িয়ে খবর প্রকাশ করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক সং’সদ সদস্য এডভোকেট কেয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই না করে এমন সংবাদে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরণের বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোনো পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com