লেখক ভট্টাচার্যের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে বেপরোয়া ‘অপরাধীরা’ ! - বাংলা একাত্তর লেখক ভট্টাচার্যের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে বেপরোয়া ‘অপরাধীরা’ ! - বাংলা একাত্তর

রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

লেখক ভট্টাচার্যের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে বেপরোয়া ‘অপরাধীরা’ !

লেখক ভট্টাচার্যের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে বেপরোয়া ‘অপরাধীরা’ !

ছাত্রলীগকে ‘শুদ্ধ’ সংগঠন হিসেবে দেখতে মা’দকের বি’রুদ্ধে বরাবরই ক’ঠোর নির্দেশনা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু মা’দক, বিবাহিত ও নানা অ’ভিযোগে অ’ভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারাই নাকি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে বে’পরোয়া হয়ে উঠছেন! যদিও উত্থাপিত অ’ভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেনসিডিলসহ ছাত্রলীগের তিন কেন্দ্রীয় নেতা আ’টক হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তারা হলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জিয়াসমিন শান্তা, এম সাজ্জাদ হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর জব্বার রাজ। তারা সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারী। লেখকের সব প্রো’গ্রামে তারা উপস্থিত থাকেন।

মা’দকদ্রব্যসহ তিন নেতার আ’টকের খবরে আলোড়ন তৈরি হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও। এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে চলছে সমালোচনা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের বি’রুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষু’ব্ধ নেতাকর্মীরা। ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও।

জানা যায়, নাসিরনগর উপজে’লা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। তবে সহ-সভাপতি জিয়াসমিন শান্তা, এম সাজ্জাদ হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর জব্বার রাজ নাসিরনগর না গিয়ে প্রাইভেটকারে বিজয়নগর উপজে’লার চান্দুরায় যান। চান্দুরা সড়কের তেলের পাম্পের সামনে থেকে তাদের ২০ বোতল ফেনসিডিলসহ আ’টক করে বিজয়নগর থানা পুলিশ। তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় ছুটে যান জে’লা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত শোভন ও বিজয়নগর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম মাহবুব হোসেন।

থানায় উপস্থিত হয়ে বিজয়নগর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম মাহবুব হোসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের ছাড়তে পুলিশের ও’পর চা’প দেন। পরে গাড়িচালক মো. রমজানকে থানায় রেখে বাকি তিন নেতাকে ছাড়িয়ে আনা হয়। আ’টক গাড়িচালক রমজানের বি’রুদ্ধে পরে মা’মলা দেয় পুলিশ।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় সম্মেলন, জাতীয় কর্মসূচি, বিভিন্ন ইউনিটে শীর্ষ নেতৃত্বের সফর, মধুর ক্যান্টিনের রাজনীতি, লেখকের বাসার সামনে আড্ডাসহ বিভিন্ন জায়গায় ওই তিন কেন্দ্রীয় নেতা সাধারণ সম্পাদক লেখকের সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকেন।

শুধু তারা নন; কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুব্রত হালদার বাপ্পী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজীর হোসেন নিশি, বেস’রকারি বিশ্ববিদ্যালয় বি’ষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমানও লেখক ভট্টাচার্যের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত। যাদের বি’রুদ্ধে বিভিন্ন সময় মা’দক সেবন, মা’রধর, চাঁ’দাবাজিসহ নানা অ’ভিযোগের খবর গণমাধ্যমে এসেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরে ডাকাতি-ছি’নতাই করা সংঘবদ্ধ চ’ক্রের মূলহোতা ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত হালদার বাপ্পী। যাত্রাবাড়ী থানায় দিনদুপুরে র‌্যা’ব পরিচয়ে ছি’নতাই করা একটি মা’মলার ত’দন্ত করতে গিয়ে বাপ্পীর বি’রুদ্ধে এমন তথ্য পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ব্যক্তিজীবনে বিবাহিত ও স’ন্তানের জনক তিনি। তার কোনো ছাত্রত্ব নেই। তারপরও তাকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে পদায়ন করেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। কারণ, বাপ্পী লেখকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তার এলাকায় (যশোর) বাড়ি। বর্তমানে এ নেতা ছাত্রলীগের পদ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অ’পরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লেখকের বন্ধু ও এলাকার নেতা হওয়ায় তার বি’রুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

আবদুর জব্বার রাজ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন জায়গায় কমিটিকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার অ’ভিযোগ রয়েছে তার বি’রুদ্ধে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সম্মেলনে যাওয়ার পথে জে’লা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন শোভনের কাছ থেকে মা’দকের উপঢৌকন নিতে গিয়ে পুলিশের কাছে আ’টক হন তিনি। এর আগে অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন আনন্দবাজার এলাকায় বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁ’দাবাজির খবর প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। সম্প্রতি তার বি’রুদ্ধে মা’দক সেবন ও ব্যবসার অ’ভিযোগ পাওয়া যায়। শোভন-রাব্বানীর কমিটিতে তিনি উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদ পান। লেখক ভট্টাচার্য সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তাকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে পদায়ন করা হয়।

২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বীকে মা’রধর করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজীর হোসেন নিশি। তার সঙ্গে ছিলেন সহ-সভাপতি জিয়াসমিন শান্তা। ওই ঘটনায় হ’’ত্যাচেষ্টা মা’মলা করেন তন্বী। পরে আ’দালত নিশি ও শান্তাসহ পাঁচজনের বি’রুদ্ধে গ্রে’ফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক ত্রাণ ও দু’র্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এহসানুল হক ইয়াসিরের মাথা ফাটিয়ে দেন বেনজির হোসেন নিশি। এ ঘটনায় নিশির বি’রুদ্ধে আরও একটি হ’’ত্যাচেষ্টা মা’মলা হয়।

লেখকের আরেক ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগের বেস’রকারি বিশ্ববিদ্যালয় বি’ষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমান। তার বি’রুদ্ধে সাত কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে ছাত্রী উ’ত্ত্যক্ত ও যৌ’ন নি’পীড়ন এবং ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে ছাত্রলীগের বৈশাখী কনসার্টে হা’মলার অ’ভিযোগ রয়েছে। পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে ভালোবাসা দিবসের কনসার্টে লাখ টাকার চাঁ’দা দাবি করে কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়ারও অ’ভিযোগ আছে তার বি’রুদ্ধে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার গবেষণা ও প্রশিক্ষণবি’ষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

অ’ভিযোগ ওঠা ছাত্রলীগ নেতৃত্বের সবাই লেখক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ। এ কারণে ওই ঘটনার কোনোটিতে কারও বি’রুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব— অ’ভিযোগ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের।

এসব অ’ভিযোগের বি’ষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘যারা এসব অ’পরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জ’ড়িত, তাদের বি’রুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণে বারবার এমন অ’পরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অ’পরাধীরা যেহেতু সংগঠনের নেতা, সেহেতু এক্ষেত্রে জয়-লেখকের দায়বদ্ধতাও রয়েছে। অ’পরাধীদের কারণ দর্শানো নোটিশ বা অ’পরাধ বেশি হলে শা’স্তি দেওয়া উচিত। যদি এসবের কোনোটাই না করা হয় তবে তারা আরও বে’পরোয়া হবে। অবশ্যই তাদের (জয়-লেখক) এ দায় নিতে হবে।’

২০ বোতল ফেনসিডিলসহ আ’টকের বি’ষয়ে জিয়াসমিন শান্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বি’ষয়টি মি’থ্যা। আমি কোনোভাবেই ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলাম না।’ ছাত্রলীগের জুনিয়র নেত্রীকে মা’রধরের বি’ষয়ে তিনি বলেন, ‘মা’রধরের সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পরে ঝামেলা মিটাতে গিয়ে বি’পদে পড়ি। এখন যেহেতু বি’ষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, আ’দালতই সিদ্ধান্ত নেবেন আমি দো’ষী নাকি নির্দোষ।’

নিজ সংগঠনের নেতাদের মা’রধরের অ’ভিযোগে হ’’ত্যাচেষ্টা মা’মলায় গ্রে’ফতারি পরোয়ানাভুক্ত আ’সামি বেনজির হোসেন নিশির সঙ্গেও যোগাযোগ করে ঢাকা পোস্ট। তার দাবি, ‘মি’থ্যা ও ভিত্তিহীন মা’মলা দা’য়ের করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি নিজেকে ‘ব্যস্ত বলে’ পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানান।

অ’ভিযুক্ত সহ-সভাপতি এম সাজ্জাদ হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর জব্বার রাজের সঙ্গে ঢাকা পোস্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাদের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

নিজ অনুসারীদের বি’রুদ্ধে এমন অ’ভিযোগের বি’ষয়ে জানতে চাইলে লেখক ভট্টাচার্য ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বেনজির হোসেন নিশি ও জিয়াসমিন শান্তার বি’রুদ্ধে যে মা’মলা রয়েছে সেটি আ’দালতের রায়ের ও’পর নির্ভর করবে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাসহ অন্যদের বি’রুদ্ধে যেসব অ’ভিযোগ রয়েছে সেগুলো মি’থ্যা।’

অ’পরাধ করেও কেন পার পেয়ে যাচ্ছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ— জানতে চাওয়া হলে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম তখন কখনওই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি। তিনি কার ঘনিষ্ঠ, কার রাজনীতি করেন— সেটা দেখার বি’ষয় নয়। অন্যায়কে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার সুযোগ নাই।

‘একজনের বি’রুদ্ধে টানা দুইটা মা’মলা হলো, তাও নিজ সংগঠনের নেতাদের হ’’ত্যাচেষ্টার অ’ভিযোগে— এটা তো দুঃ’খজনক। তাকে সংগঠন থেকে ব’হিষ্কার করা উচিত ছিল, আমি থাকলে সেটাই করতাম। যে দুষ্কৃতিকারী, তার তো কোনো পরিচয় থাকতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, যেহেতু বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতাদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ আসছে, প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে; তারপরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বি’ষয়গুলো ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র নেতাদের জানানো উচিত। অথচ, গত কমিটিতে যারা কোনো অন্যায় করেনি তাদের অনেককে বলির পাঠা বানানো হয়েছে। এটা খুবই দুঃ’খজনক। সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com