মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

লেখাপড়ায় অমনোযোগী ডানপিটে ছেলেটি এখন বিচারক

লেখাপড়ায় অমনোযোগী ডানপিটে ছেলেটি এখন বিচারক

ছোটবেলায় পড়ালেখায় ছিলেন ভীষণ রকম অমনোযোগী। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বলা চলে কোনোমতে পড়ালেখা চালিয়ে গিয়েছেন। চতুর্থ ঘণ্টার পর স্কুল পালানোটা ছিল তার নিয়মিত স্বভাব। আর এর জন্য প্রায় নিয়মিত প্রধান শিক্ষকের শাস্তি ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

তবে নবম শ্রেণিতে এসে তার জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। পড়ালেখার প্রতি তৈরি হয় তীব্র আকর্ষণ। আর সময়ের ব্যবধানে সেই স্কুল পালানো ছেলেটি এখন বিচারক। সম্প্রতি প্রকাশিত সহকারী জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে মেধা তালিকায় ৫৬তম হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মো. মাজেদ হোসাইন। চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট খাজা রোডের সিদ্দিক হাজীর বাড়ির বাসিন্দা তিনি।

মো. মাজেদ হোসাইন জানান, তার স্কুলের জয়নাল স্যার, ওসমান স্যারের কড়া শাসন এবং সময়োপযোগী নির্দেশনায় ধীরে ধীরে তার লেখাপড়ার উন্নতি হয়। ফলে দশম শ্রেণিতে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সরকারি হাজী মহসিন কলেজে ভর্তি হন এবং গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি চারটি ইউনিটে অংশগ্রহণ করে চারটিতেই মেধাতালিকায় স্থান পান এবং আইন বিভাগে ভর্তি হন।

মাজেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি চেষ্টা করেছেন নিয়মিত পড়াশোনা করে অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট ভালো রাখতে। ফলশ্রুতিতে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় হয়ে এলএলবি (অনার্স) শেষ করেন। অনার্স শেষ করার পর জুডিশিয়ারির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।

জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় সফলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, অনার্স পড়ার সময় থেকেই চেষ্টা করতেন আইনের বিষয়গুলো বুঝে বুঝে পড়তে। এছাড়া নিয়মিত টিউশন করানোয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে মোটামুটি ভালো একটা ধারণা ছিল। তাই সহজেই প্রিলিমিনারি, রিটেন এবং ভাইভা- এ তিনটি ধাপ সফলতার তিনি সফলতার সাথে অতিক্রম করতে সক্ষম হন। ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে মাজেদ বলেন, তার এখন একমাত্র ইচ্ছে যেকোনো অবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com