মিরসরাইয়ে হিজাব পরায় স্কুলছাত্রীকে হে’নস্থা ও বে’ত্রাঘাত - বাংলা একাত্তর মিরসরাইয়ে হিজাব পরায় স্কুলছাত্রীকে হে’নস্থা ও বে’ত্রাঘাত - বাংলা একাত্তর

মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

মিরসরাইয়ে হিজাব পরায় স্কুলছাত্রীকে হে’নস্থা ও বে’ত্রাঘাত

মিরসরাইয়ে হিজাব পরায় স্কুলছাত্রীকে হে’নস্থা ও বে’ত্রাঘাত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জো’রারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে (জেবি) হিজাব নি’ষিদ্ধ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) হিজাব পরিধান করে এক ছাত্রী স্কুলে গেলে তাকে হে’নস্থা ও বেত্রাঘাতের অ’ভিযোগ উঠেছে তার বি’রুদ্ধে।এ বি’ষয়ে ভু’ক্তভোগী ছাত্রী উপজে’লা নির্বাহী অফিসার ও উপজে’লা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অ’ভিযোগ দিয়েছেন।

অ’ভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনকার মতো মঙ্গলবার সকালে হিজাব পরে বিদ্যালয়ে আসে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী লামিয়া বিনতিহাসহ আরো ৩ শিক্ষার্থী। সকাল ১১টার দিকে অ্যাসেম্বলি শেষে ক্লাস শুরুর আগে প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া তাদের ডেকে হিজাব খুলে ফেলতে বা’ধ্য করার চেষ্টা করেন।

এ সময় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিনতিহা হিজাব খোলার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেত্রাঘাত করেন প্রধান শিক্ষক। এরপর মুহূর্তেই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষু’ব্ধ এলাকাবাসী ও বিনতিহার অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করেন। এতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে পরে বিনতিহা উপজে’লা নির্বাহী অফিসার ও উপজে’লা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অ’ভিযোগ দিয়েছে।

এ বি’ষয়ে লামিয়া বিনতিহার চাচা মোহাম্ম’দ মহিব বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা এ বি’ষয়ে প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাদের প্রথম বলেন, ‘স্কুলের ভেতর হিজাব পড়া যাবে না।’ পরে আমার ভাতিজিকে ওই স্কুল থেকে অন্য স্কুলে নিয়ে যেতে উনার (প্রধান শিক্ষক) কাছে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট চাই। এ সময় তিনি কিছুটা নমনীয় হয়ে বলেন, ‘আচ্ছা বিনতিহা চলতি শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত হিজাব পরলে অসুবিধে নেই। তবে আগামী বর্ষে আর পারবে না।’

এ সময় শিক্ষার্থী লামিয়া বিনতিহা এ প্রতিবেদকের কাছে বলে, ‘ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সে জেবি স্কুলে পড়াশুনা করছে। প্রায়শ’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিজাব পরে স্কুলে আসলে নানান ঝামেলা করতেন। মঙ্গলবার তিনি কিছুতেই আমাকে হিজাব পরতে দিবেন না। এর আগেও আমি ও আমার আরো কয়েকজন সহপাঠীকে হিজাব না পরতে বা’ধ্য করেন। এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’

অবশ্য হিজাবের জন্য শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের কথা অস্বীকার করে জো’রারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ের (জেবি) প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমি মেয়েদের হিজাব নি’ষিদ্ধ করিনি। তারা বাড়ি থেকে স্কুল পর্যন্ত হিজাব পরিধান করতে পারবে তবে স্কুলে ঢুকলে হিজাব খুলে ক্লাস করতে হবে।’ এ সময় তিনি দাবি করেন, ‘হিজাবের জন্য আমি কোনো শিক্ষার্থীকে মা’রধর করিনি। তবে তাদের আমি বলেছি, ‘তোমরা স্কুলের ড্রেসকোড ফলো করবে। বাড়ি থেকে হিজাব পরে আসলেও স্কুলে স্কার্ট পড়বে।’

লামিয়া বিনতিহা’র আরেক চাচা মোহাম্ম’দ তুষার বলেন, নারীর পর্দা করা ইসলামে ফরজ। শিক্ষার্থীরা যদি হিজাব পরে বিদ্যালয়ে আসে এটা তাদের স্বাধীনতা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত মু’সলিম শিক্ষার্থীদের হিজাব পরে আসলে ও ফুল হাতার ড্রেস পরলে এক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতা দেয়া। আমার ভাতিজিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী হিজাব পরায় প্রধান শিক্ষক তাদের বেত্রাঘাত ও শা’রীরিকভাবে লা’ঞ্ছিত করেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আমরা উপজে’লা নির্বাহী অফিসার ও উপজে’লা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অ’ভিযোগ দিয়েছি।’

এ বি’ষয়ে মিরসরাই উপজে’লা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান বলেন, ‘জো’রারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হিজাব পরতে বা’ধা দেয়ার বি’ষয়ে একটি লিখিত অ’ভিযোগ পেয়েছি। ছাত্রীরা যদি হিজাব পরতে চায় তাহলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে বা’ধা দেয়ার সুযোগ নেই। বি’ষয়টি ত’দন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপজে’লা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘জো’রারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হিজাব পরতে বা’ধা দেয়ার বি’ষয়ে একটি লিখিত অ’ভিযোগ পেয়েছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ড্রেস নির্ধারণ করে দিতে পারবেন কিন্তু কেউ হিজাব পরলে তাতে বা’ধা দিতে পারেন না। বি’ষয়টি ত’দন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com