সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন

মৃত্যু শয্যায় থেকেও নামাজ আদায় করেন আল্লামা কাসেমী

মৃত্যু শয্যায় থেকেও নামাজ আদায় করেন আল্লামা কাসেমী

হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় থেকেও নামাজ আদায় করেন আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী।এমনি দৃশ্য দেখা যায় হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে, যা এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আজ সকাল নয় টায় লাখো জনতার অশ্রুসিক্ত বিদায় দেওয়া হয় এই প্রবীণ আলেম কে।

আরও পড়ুনঃ কে হচ্ছেন হেফাজতের পরবর্তী মহাসচিব!

কওমি আলেমদের বৃহত্তর অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের মহাস’চিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর মৃ’ত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা-কল্পনা। ইতোমধ‌্যেই মহাস’চিব হিসেবে সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী, সিনিয়র যুগ্ম মহাস’চিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ও যুগ্ম মহাস’চিব মাওলানা মামুনুল হকের নাম উচ্চারিত হচ্ছে।

তবে, এই ৩ জনের মধ্যে মামুনুল হকের মহাস’চিব পদে আসার সম্ভাবনা বেশিই বলে মনে করছেন অনেকে। তাকে হেফাজতের মহাস’চিব করার দাবিও তুলছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘ভাস্কর্য নির্মাণ ইস্যুতে হেফাজতের বর্তমান আন্দোলনে মাঠে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন, তিনি মাওলানা মামুনুল হক।

আমরা তাকেই হেফাজতের মহাস’চিব পদে দেখতে চাই।’ হেফাজতের একাধিক ঘনিষ্ঠ-সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা মামুনুল হককে হেফাজতের পরবর্তী মহাস’চিব হিসেবে শেষ পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। যদিও তার ও’পরের পদে আরও কয়েকজন নেতা রয়েছেন। মহাস’চিব পদে তার বিকল্প কাউকে ভাবছেন না বেশিরভাগ কওমি আলেম।

নূর হোসাইন কাসেমীর পদে মামুনুল হকের পক্ষেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা আওয়াজ তুলেছেন। তবে, মা’মলা কিংবা অন্যকোনো কারণে মামুনুল হক রাজি না হলে সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাস’চিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে মহাস’চিব করা হতে পারে।

হেফাজতের নেতাকর্মীদের দাবি, মাওলানা কাসেমীর শূন্যপদে মামুনুল হকের বিকল্প নেই। এই মুহূর্তে ভাস্কর্যবি’রোধী আন্দোলনের মূলে তিনিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাজধানীতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হু’মকি দিয়ে হেফাজতের ব্যানারে বড় ধরনের আন্দোলনের চেষ্টাও চা’লিয়ে যাচ্ছেন এই ধর্মীয় নেতা।

শুধু তাই নয়, হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লামা শফীর ছেলে আনাস মাদানীর পরিবর্তে বাবুনগরীকে কো-অপ্ট করার আন্দোলনেও ভূমিকা ছিল তার। আল্লামা আহমদ শফীর মৃ’ত্যুর পর হেফাজতকে একাট্টা করে বাবুনগরীকে হেফাজতের নতুন আমির ও মাওলানা কাসেমীকে মহাস’চিব করার নেপথ্যেও কাজ করেছেন তিনি।

জানা গেছে, মাওলানা কাসেমীর মৃ’ত্যু’র পর আপাতত হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত মহাস’চিব হিসেবে সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম মহাস’চিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব দায়িত্ব পালন করবেন। কাসেমীর দাফন শেষ হলে সময়-সুযোগ মতো সংগঠনের নেতারা বসে নতুন মহাস’চিব নির্বাচিত করবেন।

এই বি’ষয়ে হেফাজত নেতা মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বারিধারা মাদ্রাসা থেকে মোবাইলফোনে বলেন, ‘আমরা জগদ্বিখ্যাত এই আলেমকে হা’রিয়ে শো’কাহত। কে হবেন আমাদের মহাস’চিব, এই মুহূতে তা নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। সংগঠনের নেতারা বসে পরবর্তী মহাস’চিব ঠিক করবেন।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বি’রোধিতাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় আসে হেফাজত। এর আগে, চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃ’ত্যুবরণ করেন। এরপর ১৫ নভেম্বর হাটহাজারি মাদ্রাসায় কাউন্সিল করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

এরপর তৎকালীন মহাস’চিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নতুন আমির নির্বাচিত করা হয়। আর নায়েবে আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীকে করা হয় মহাস’চিব। কমিটিতে ৩২ জন নায়েবে আমির, ৪ জন যুগ্ম মহাস’চিব, ১৮ জন সহকারী মহাস’চিব নির্বাচিত করা হয়।

কমিটি গঠনের একমাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বার্ধক্যজনিত ও ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে রোববার (১৩ ডিসেম্বর)মা’রা যান হেফাজতের নতুন মহাস’চিব আল্লামা কাসেমি। তার মৃ’ত্যুতে মহাস’চিব পদটি শূন্য হয়ে যায়। একমাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নতুন মহাস’চিব নির্বাচিত করতে হচ্ছে সংগঠনটিকে।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com