সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

জিন তা’ড়ানোর নামে বৃ’দ্ধাকে ম’ধ্যযুগীয় কা’য়দায় এ কেমন নি’র্যা’তন?

জিন তা’ড়ানোর নামে বৃ’দ্ধাকে ম’ধ্যযুগীয় কা’য়দায় এ কেমন নি’র্যা’তন?

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রূপভান বেগম (৭০) নামে এক বৃ’দ্ধাকে জিন তা’ড়ানোর নামে ম’ধ্যযুগীয় কা’য়দায় নি’র্যাতনের অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজে’লার বারপাখিয়া গ্রামে।কথিত কবিরাজ বারপাখিয়া গ্রামের আলম হোসেনের মে’য়ে সীমা খাতুন (২৬) জিন তা’ড়ানোর নামে শা’রীরিক নি’র্যাতন করেছেন বলে জানান বৃ’দ্ধা রূপভান বেগম। বৃ’দ্ধার সারা শ’রীরে নি’র্যাতনের ফলে র’ক্ত জ’মাট বেঁ’ধে গেছে।

বৃ’দ্ধা রূপভান বেগম জানান, গত ৬ দিন আগে আমি কবিরাজ সীমা খাতুনের বাড়িতে যাই। প্রথমে হাতচালান দিল। এরপর বলল আমার ঘাড়ে জিন আছে। জিনের কথা বলেই আমাকে মা’রধর শুরু করে। এরপর তিনি জিন নেই বললেও আরও বেশি মা’রধর শুরু করে। আমার শ’রীরে দুইটা কাঁচি দিয়ে পে’টাতে থাকে। এরপর লা’ঠি দিয়েও মা’রধর করে।

তিনি বলেন, আমার সারা শ’রীরে মা’রধরের র’ক্ত জমাট বেঁ’ধে আছে। প’রিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজেই চি’কিৎসা নিচ্ছি। আমার কাছ থেকে ওই কবিরাজ ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।কী জন্য আপনি কবিরাজের কাছে গিয়েছিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তার নাতি প্রায় ২ মাস ভাত খেতে চায় না। সে কারণে কবিরাজের কাছে যায়। তখন কবিরাজ বলে যে নানির ঘাড়ে জিন আছে এজন্য সে ক্ষ’তি করছে।

ঘটনার বি’ষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক কথিত কবিরাজ সীমা খাতুনের বাড়িতে যান। প্রতিবেদক পরিচয় গো’পন করে একজন রো’গীকে দেখাবেন বলে ভ’ণ্ড কবিরাজ সীমার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সীমা খাতুনের মা ও জামাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নিজ বাড়িতে এই প্রতিবেদককে কথিত কবিরাজ সীমা খাতুন বলেন, তার ঘাড়ে জিন সবসময় থাকে না। যখন রো’গীকে চি’কিৎসা দেয়া হয় তখন জিন চলে আসে। রো’গী আসার পর আমার ঘাড়ে থাকা জিন বলে দেয় চি’কিৎসা বাবদ কত টাকা লাগবে। তিনি বিভিন্ন চি’কিৎসা দিয়ে থাকেন। যখন কেউ কথা শুনে না তখন তাকে মা’রধর করা হয়।

জিন কীভাবে তা’ড়িয়ে দেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন তদবির ও মন্ত্র দিয়ে জিন তা’ড়িয়ে দেয়া হয়। কথা বলতে বলতে এ সময় প্রতিবেদকের সামনেই ভ’ণ্ড সীমার ঘাড়ে জিনের আগমন ঘটে। মুখ নাড়া দিয়েই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর উচ্চস্বরে বলেন, আপনাদের কোনো কথা থাকলে আমার সঙ্গে বলেন, ওদের সাথে না। আপনাদের কেউ ত’দন্ত করতে পাঠালে সেটাও আমাকে বলতে হবে। কোনো রো’গী অ’ন্যায় কাজ করলে তাকে আমি শা’স্তি দিই। এরপর সেই জিন প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন- আপনাদের আমার ঠিকানা কে দিয়েছে?

কয়েক দিন আগে বৃ’দ্ধা রূপভানকে মা’রধ’রের বি’ষয়ে জানতে চাইলে ভ’ণ্ড কবিরাজ এ বি’ষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

বি’ষয়টি নিয়ে ৪নং নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি লস্কর জানান, কথিত কবিরাজ সীমা খাতুন পার্শ্ববর্তী ফারাশপুর গ্রামের বৃ’দ্ধা রূপভান বেগমকে জিন তাড়ানোর নামে মা’রধর করেছেন। বৃ’দ্ধার শরীরে র’ক্ত জ’মাট বেঁ’ধে আছে। তিনি ওই বৃ’দ্ধাকে দেখেও এসেছেন। অ’ভিযোগ পেলে কথিত ওই কবিরাজ সীমা খাতুনের বি’রুদ্ধে ব্য’বস্থা নেবেন।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com