শতকোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ শিল্পকলার ডিজি লাকীর নামে - বাংলা একাত্তর শতকোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ শিল্পকলার ডিজি লাকীর নামে - বাংলা একাত্তর

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
শতকোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ শিল্পকলার ডিজি লাকীর নামে

শতকোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ শিল্পকলার ডিজি লাকীর নামে

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) লিয়াকত আলী লাকীর বি’রুদ্ধে অর্থ আ’ত্মসাৎ ও অর্থপা’চারের অ’ভিযোগ পেয়েছে দু’র্নীতি দ’মন কমিশন (দুদক)। অ’ভিযোগ অনুযায়ী- ঘুষ, ক্ষমতার অ’পব্যবহারে ও ভুয়া বিলসহ নানা অ’নিয়মের মাধ্যমে তিনি শতকোটি টাকা লোপাট করেছেন। ৬০ কোটি টাকার অ’বৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন লাকী সিন্ডিকে’টের ৮ কর্মকর্তা।

এসব অ’ভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২ সদস্যের টিম করা হয়েছে। এ বি’ষয়ে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মোজাম্মেল হক খান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর বি’রুদ্ধে ঘুষ নেওয়া, ক্ষমতার অ’পব্যবহারে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দু’র্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আ’ত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এ ছাড়া দু’র্নীতির মাধ্যমে অর্জন করা অর্থের একটি বড় অংশ পা’চারের তথ্যও পেয়েছে দুদক।

এসব কারণে তার বি’রুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোজাম্মেল হক আরও বলেন, দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্ম’দ ইব্রাহিম ও সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার সমন্বয়ে অনুসন্ধান টিম করা হয়েছে। অনুসন্ধান টিমের তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে আছেন পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

দুদকের টেবিলে থাকা অ’ভিযোগে বলা হয়, লিয়াকত আলী লাকী প্রায় একযুগ ধরে শিল্পকলা একাডেমির ডিজির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শত শত কোটি টাকা আ’ত্মসাৎ করেন। তিনি গত বছরের ৩০ জুন বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে আ’ত্মসাৎ করেন।

এ ছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ৩০ জুন একজন স’চিবকে দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখিয়ে ১০ কোটি টাকা আ’ত্মসাৎ করেন। তাকে এই কাজে সহায়তা করেন দুজন কালচার অফিসার সহকারী পরিচালক (হিসাব) আল হেলাল ও উপপরিচালক (অর্থ) শফিকুল ইসলাম। গত বছরের ৩০ জুন ৮ জন কালচার অফিসারকে জে’লায় বদলি করে ম’ন্ত্রণালয়। ডিজি প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ করে তাদের বদলির আদেশ বাতিল করান। এর পর এসব কর্মকর্তাকে নিয়ে মিটিং করে অনুষ্ঠান দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আ’ত্মসাৎ করেন।

তিনি বিভিন্ন জে’লার কালচার অফিসারদের ঢাকায় এনে সুযোগসুবিধা দিয়ে শতকোটি টাকা আ’ত্মসাৎ করেন। একই সঙ্গে তার সিন্ডিকে’টের ৮ জন জে’লা কালচার অফিসার বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অফিসারের মধ্যে চাকলাদার মাসুদ সুমন ১০ কোটি টাকা, এরশাদ হাসান ৫ কোটি টাকা, সুজন মাহবুব ৫ কোটি টাকা, মোস্তাক আহমেদ ১০ কোটি এবং ৫টি মাইক্রোবাস, রাকিবিল বারী ৫ কোটি, রিফাত জাহান ৫ কোটি, আল হেলাল ১০ কোটি ও শহিদুল ইসলাম ১০ কোটি টাকা অর্জন করেন। অ’ভিযোগে বলা হয়, ক’রোনার কারণে এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী হয়নি।

কিন্তু ১২-১৫ কোটি বাজেট লোপাটের জন্য ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান করে কাগজপত্র বানানো হয়। যারা চারুকলার কাজ বোঝেন, তাদের এর সঙ্গে রাখা হয়নি। তিনি অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে নিজের পছন্দের লোক দিয়ে চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজনে জোট বাঁধেন। ২০২০-২১ অর্থবছরের শিল্পকলা একাডেমির অব্যয়িত ৩৫ কোটি টাকা লোপাটের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অর্থ আ’ত্মসাতের পথ সুগম করতে তিনি একাডেমি স’চিবকে জুন মাসে সরিয়ে দিয়ে অন্য একজনকে স’চিবের দায়িত্ব দিয়ে প্রতিবছর জুন মাসে ২৫-৩০ কোটি টাকা লোপাট করেন।

অ’ভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ৩০ জুন শিল্পকলা একাডেমির আগের স’চিব নওশাদ হোসেন বদলি হলে ওইদিনই নতুন আদেশ জারি করে একাডেমির চুক্তিভিত্তিক পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিমকে স’চিবের দায়িত্ব দেন লাকী। এর পর ৩০ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে ২৬ কোটি টাকা ক্ষমতার অ’পব্যবহারে ও অনিয়ম-দু’র্নীতির মাধ্যমে করে আ’ত্মসাৎ করেন।

অ’ভিযোগে আরও বলা হয়, লিয়াকত আলী লাকীর বি’রুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অ’ভিযোগ রয়েছে। সংগীত বিভাগের কক্ষে ব্যবহারের জন্য পর্দা, ক্রোকারিজ ও আসবাব না কিনে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ, ডান্স এগেইনস্ট ক’রোনা কর্মসূচির আওতায় নৃত্যদলের সম্মানী, হার্ডডিস্ক ক্রয়, ডকুমেন্টেশন, প্রপস-কস্টিউম, প্রচার ও বিবিধ ব্যয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ লোপাটের অ’ভিযোগ রয়েছে। সূত্রঃ আমাদের সময়

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com