সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

এই তিব্র শীতেও মাটির গর্তেই সময় কাটে প্রতিব’ন্ধী আসাদুলের

এই তিব্র শীতেও মাটির গর্তেই সময় কাটে প্রতিব’ন্ধী আসাদুলের

শেরপুরের নকলা উপজে’লার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের দিনমজুর মো. রুবেল মিয়ার ছে’লে প্রতিব’ন্ধী শি’শু আসাদুল (৭)। সে শারীরিক, বাক ও বুদ্ধি প্রতিব’ন্ধী। আসাদুলের বয়স যখন চার বছর, তখন তার মা রাশেদা বেগম ঢাকার এক বাসায় ছে’লেকে রেখে যান। তারপর তিনি আর ছে’লের খোঁজ করেননি।

পরে আসাদুলের চাচি নুরেছা বেগমের সহযোগিতায় শি’শুটিকে ঢাকা থেকে নকলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। রুবেল তার প্রতিব’ন্ধী ছে’লেকে মা শহর বানুর (৫৭) কাছে রেখে যান। সেই থেকে আসাদুল দাদী শহর বানুর কাছে থাকে।

নাতি ও নিজের জীবনযাপনের জন্য তাকে নির্ভর করতে হচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তির ওপর। রান্না ও গোসলসহ অন্যান্য কাজের সময় প্রতিব’ন্ধী শি’শুটিকে ছোট একটি গর্তে রেখে যান দাদি শহর বানু। কারণ শি’শুটি একা বসে থাকতে পারেনা। বিছানায় শোয়াবার সময়ও তাকে ধরে রাখতে হয়।

তা না হলে বিছানা থেকে সে পড়ে যায়। ঘরের ভেতর গর্তে প্রতিব’ন্ধী নাতিকে রেখে দাদি শহর বানু রান্না-বান্নাসহ আনুষঙ্গিক কাজ করেন। ভিক্ষা করে জীবন-যাপন করেন দাদী শহরবানু। বাঁশের ছোট ভাঙা ঘরে প্রতিব’ন্ধী নাতিকে নিয়ে থাকেন শহর বানু।

মা বাবার কাছে আশ্রয় মেলেনি প্রতিব’ন্ধী এই শি’শুটির। দরিদ্র বিধবা দাদীই এখন তার একমাত্র সহায়। তবে যে উপায়ে দাদী তাকে বাঁচিয়ে রাখছেন, সে উপায়টি মোটেও সম্মানজনক নয়। দাদী ভিক্ষা করে দুজনের খাবারের ব্যবস্থা করেন। তিন বছর ধরে এভাবেই দিন চলছে দাদী-নাতির।

আসাদুলের বাবা ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। স্ত্রী’ রাশেদার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। শহর বানু রামপুর এলাকায় তার বাবার সামান্য জমিতে তৈরি একটি ছোট বাঁশের ঘরে নাতি আসাদুলকে নিয়ে থাকেন। শহর বানু নিজেও অ’সুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে কোম’রের ব্যথায় ভুগছেন।

তারপরও প্রতিব’ন্ধী নাতিকে কোলে নিয়ে সারা দিন ভিক্ষা করেন। দুপুরে যদি কারও বাড়িতে খাবার পান তাহলে খেয়ে নেন, সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে রান্না করে নিজে খান এবং নাতিকে খাওয়ান। উপজে’লা সমাজসেবা কর্মক’র্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনার জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাঁদের নাম তালিকাভূক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আবেদন পেলে ওই বিধবা নারী ও প্রতিব’ন্ধী শি’শুটির জন্য বিধবা ও প্রতিব’ন্ধী ভাতা’র কার্ড দেওয়ার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। পরে স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালে এই খবর ছাপা হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

পরে ১ সেপ্টেম্বর আসাদুলকে সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালিত অসচ্ছল প্রতিব’ন্ধী ভাতা এবং শি’শুটির দাদী শহরবানুকে স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা কর্মসূচীর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের মাঝে ভাতার বহি বিতরণ করা হয়েছে। এই ভাতা বহির কার্ড বিতরণ করেন উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান। এ সময় উপজে’লা সমাজসেবা কর্মক’র্তা মো. আলমগীর হোসেন, উপজে’লা প্রকৌশলী আরেফিন পারভেজ, চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজু সাঈদ সিদ্দিকী’ উপস্থিত ছিলেন।

উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, শহরবানুকে বিধবা ভাতা ও নাতিকে প্রতিব’ন্ধী ভাতা কার্ড দেওয়া হয়েছে। জে’লা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আসাদুলকে তার চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইল চেয়ার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জমি আছে ঘর নাই প্রকল্প থেকে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। শহরবানুকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আপাতত কারো কাছে যেনো হাত পাততে না হয় সেজন্য গতকাল দুই সপ্তাহের বাজার সদাই তার বাড়িতে দিয়ে আসা হয়েছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com