কুয়েটের সেই শিক্ষক সেলিমের লেখাপড়ার জন্য গার্মেন্টে চাকরি নেন দু’বোন - বাংলা একাত্তর কুয়েটের সেই শিক্ষক সেলিমের লেখাপড়ার জন্য গার্মেন্টে চাকরি নেন দু’বোন - বাংলা একাত্তর

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
কুয়েটের সেই শিক্ষক সেলিমের লেখাপড়ার জন্য গার্মেন্টে চাকরি নেন দু’বোন

কুয়েটের সেই শিক্ষক সেলিমের লেখাপড়ার জন্য গার্মেন্টে চাকরি নেন দু’বোন

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযু’ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। বাবা শুকুর আলী তার লেখাপড়ার খরচ যোগাতে ব্যর্থ হলে গার্মেন্টে চাকরি নিয়েছিলেন তার দুবোন শিউলি ও শ্যামলি। রোববার কুষ্টিয়ার কুমা’রখালীর বাঁশগ্রামে ড. সেলিমের গ্রামের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তিন রুমের একটি একতলা বাড়ি।

নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ঘরের আসবাব বলতে তেমন কিছুই নেই। কথা হয় বোন শিউলির সঙ্গে। তাদের মা বেঁচে নেই। ভাইয়ের মৃ’ত্যু শোকে পাগলপ্রায় শিউলি। একটু কথা বলেই হাউমাউ করে কেঁ’দে ওঠেন তিনি। শিউলি বলেন, আমা’র মেধাবী ভাইটাকে তারা মানসিক নি’র্যাতন করে মে’রে ফেলেছে। কী’দোষ ছিল আমা’র ভাইয়ের।

শিউলি জানান, তারা পাঁচ ভাই-বোন, বড় ভাই গার্মেন্টে চাকরি করেন। তারপর সেলিম। এরপর তারা তিন বোন। সেলিম ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালে শেষ দুবছর তার বাবা শুকুর আলী ঘরের কাঁসার ঘটিবাটি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পরে শিউলি ও শ্যামলি ঢাকা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে। ২০১১ সালে তাদের মা মা’রা গেলে সংসার এলোমেলো হয়ে যায়।

সে সময় তার ভাই সেলিম আগলে রেখেছিলেন সবাইকে। সেলিম চাকরি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গার্মেন্ট থেকে চাকরি ছাড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে এসে বিয়ে দেন। সেলিমের বাবা শুকুর আলী বর্তমানে খুবই অ’সুস্থ। তার একটি কিডনি ড্যামেজ, আরেকটির অবস্থাও ভালো না। সব চিকিৎসা ব্যয় বহন করত সেলিম। ছে’লেকে হারিয়ে দুচোখে অন্ধকার দেখছেন তার বাবা।

শিউলি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আমা’র ভাইকে রুমে নিয়ে ৪৫ মিনিট আ’ট’কে রাখা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশের ফুটেজ আছে, কিন্তু বের হওয়ার ফুটেজ কোথায় গেল? আসলে আমা’র ভাইকে শুধু মানসিক নয়, শারীরিক নি’র্যাতনও করা হয়েছে।

৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিমকে জেরা করা শুরু করে। পরে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ওই শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান করে। পরে শিক্ষক ক্যাম্পাসসংলগ্ন বাসায় যান। সেখানে দুপুর ২টার দিকে টয়লেটে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। অ’ভিযোগ ওঠে, শিক্ষকের কক্ষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে লা’ঞ্ছিত করেন এবং মানসিক নি’র্যাতন চালান।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com