হাসপাতালের হিসাবরক্ষক হয়েও কোটিপতি তিনি - বাংলা একাত্তরহাসপাতালের হিসাবরক্ষক হয়েও কোটিপতি তিনি - বাংলা একাত্তর

মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

হাসপাতালের হিসাবরক্ষক হয়েও কোটিপতি তিনি

হাসপাতালের হিসাবরক্ষক হয়েও কোটিপতি তিনি

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের এক হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেন ২০১২ সালে ১৪ই জুন হাসপাতালটির হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সবমিলিয়ে ২৬-২৭ হাজার টাকা বেতন পেলেও মাত্র আট বছরেই তিনি হয়ে উঠেছেন বিপুল সম্পদের মালিক। নিজে থাকেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে সেইসাথে গড়েছেন আরো একাধিক ফ্ল্যাট। রয়েছে প্লট, দোকানসহ ব্যক্তিগত গাড়িও। এসকল সম্পদের মধ্যে কোনো কোনোটি আবার গড়েছেন আত্মীয়দের নামে।

জাকির হোসেনের সম্পদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কল্যাণপুরের মাদরাসা রোড, কমিশনার গলিতে ‘মাতৃছায়া কমপ্লেক্সে এপার্টমেন্টে’ একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এই হিসাবরক্ষকের। ১৩৫০ বর্গফুটের ওই ফ্ল্যাটের মূল্য কোটি টাকা। একই এলাকায় ৫৬/৯ নং দাগে আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে জাকিরের। প্রায় আশি লাখ টাকার বেশি বাজারমূল্যের এই ফ্লাটটি তার তার এক আত্মীয়ের নামে কেনা। এর পাশাপাশি কল্যানপুরেই রোজ গার্ডেন এপার্টমেন্টে আরেকটি কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের আড়াই কাঠা পরিমাণের প্লট এবং ঢাকার অদূরে সাভারের স্বপ্নপুর আবাসিক এলাকায় দুই কোটি টাকা মূল্যের তেত্রিশ শতাংশের একটি প্লট রয়েছে জাকিরের।

এছাড়া ঢাকার পশ্চিম আগারগাঁওয়ে গ্রীন হার্ডওয়্যার একটি হার্ডওয়্যার দোকান এবং একটি নোয়াহ, একটি হায়েস ও একটি এলিয়ন কার রয়েছে জাকিরের। গাড়িগুলো তার বড় বোন বিলকিস আক্তার ও তার স্বামীর নামে রেজিস্ট্রেশন করা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার করে টেন্ডার বাগিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসআ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন জাকির। তার বিরুদ্ধে একাধিক অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডার করিয়ে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে

এদিকে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এসব দুর্নীতির অভিযোগ বহুদিনের হলেও তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর আগে তার বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করলেও সেসময় অজানা কারণে সেই অনুসন্ধান থেমে যায়। পরে দুদকের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগেও জাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব শাহিনা খাতুন ১৮ই ডিসেম্বর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক বরাবর মতামত প্রদানের জন্য চিঠি পাঠান। কিন্তু প্রায় এক বছর কেটে গেলেও নিউরো সায়েন্সের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য না পাওয়ায় বিভাগের উপসচিব জাকিয়া পারভীন জাকিরের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মতামত প্রদানের জন্য চলতি বছরের ১১ই নভেম্বর আবারো চিঠি দেন। এ চিঠির বিষয়েও এখনও নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল কোনো বক্তব্য বা মতামত দেয়নি।

এ বিষয়ে নিউরোসায়েন্সের উপপরিচালক ফারুক বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com