বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়ে যা বললেন ওপার বাংলার তারকারা - বাংলা একাত্তরবাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়ে যা বললেন ওপার বাংলার তারকারা - বাংলা একাত্তর

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়ে যা বললেন ওপার বাংলার তারকারা

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়ে যা বললেন ওপার বাংলার তারকারা

সা’ম্প্রদায়িক হা’মলার ইস্যুতে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে বাংলাদেশে। বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ও’পর হা’মলার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ রোববার (১৭ অক্টোবর) রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুদের অন্তত ২০টি ঘর পু’ড়িয়ে দেয়ার অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। হয়েছে মা’মলা, চলছে ধর পাকর। সেই সঙ্গে রাস্তায় নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ। চলছে আন্দোলন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে উ’দ্বেগ প্রকাশ করলেন ওপার বাংলার তারকা ও শিল্পীরা। বাংলাদেশের জনসাধারণ ও স’রকারের কাছে একটি খোলা চিঠি লেখা হয়েছে। যাতে দেবশংকর হালদার, ঋত্বিক চ’ক্রবর্তী, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, ঋদ্ধি সেন, কৌশিক সেন, সুদীপ্তা চ’ক্রবর্তীদের মতো তারকার নাম রয়েছে। চিঠিতে পূজা মণ্ডপে হা’মলা ও নানা অবাঞ্ছিত ঘটনার নিয়ে চিন্তা জাহির করা হয়েছে। দো’ষীদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির আবেদনও জানানো হয়েছে। তারা চিঠিতে জানিয়েছেন…

“জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার স’রকার রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর বলে বিশ্বাস করি”, লেখা হয়েছে তারকাদের শেয়ার করা এই খোলা চিঠিতে। সবশেষে বাংলাদেশের সংবেদনশীল মানুষ ও তার সচেতন স’রকারের কাছে আবেদন জানিয়ে লেখা হয়েছে, “এই সব দেশবি’রোধী, মুক্তিযু’দ্ধের চেতনাবি’রোধী, জাতির জনকের উদার বিশ্বাস আর বর্তমান স’রকারের নীতির বি’রোধী, বিদ্বেষমূলক ও প্ররোচনামূলক এই শক্তিগু’লিকে সত্বর চিহ্নিত করুন এবং তাদের নিষ্ক্রিয় করুন। যারা এবার দুর্গাপূজায় উপদ্রব করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি দিন, যাতে এই অপশক্তিরা বোঝে যে অন্যের ধর্মের ক্ষ’তি করে নিজের ধর্মের মহিমা প্রতিষ্ঠা করা যায় না, রাষ্ট্রও সে অ’পরাধ ক্ষমা করে না। বাংলাদেশ স’রকারের কাছে আমাদের নিবেদন, আমরা নিজেদের দুই দেশের মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু মনে করি, তাদের এই ব্যাকুল আবেদন”

যারা এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত, তাদের বার্তাটি কপি পেস্ট করে তাতে নিজেদের নাম যোগ করে ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করার আবেদন জানানো হয়েছে। পবিত্র স’রকার, কৌশিক সেন, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, চন্দন সেন, সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের নামও এই খোলা চিঠিতে রয়েছে। এদিকে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় আবার ফেসবুকে লিখেছেন, “সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু, বিজয়-পরাজয় মানুষ চেনো মনুষ্যত্বে সংখ্যা গুনে নয়।”

এসব ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশ হচ্ছে। সেই সূত্রেই বি’ষয়টি জানতে পেরেছেন ভারতীয় বাংলা অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি এসব হা’মলার প্র’তিবাদ জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ধর্ম…উপাসনার হাতিয়ার, নাকি যু’দ্ধের? ‘ধর্মের ভিত্তিতে যু’দ্ধ, ভেদাভেদের চেষ্টা চলতে থাকে। মানুষ যু’দ্ধ চায়, শান্তি চায় না। এটা খুবই দুঃখের। হিন্দু মু’সলমানকে মারুক কিংবা মু’সলমান হিন্দুকে মারুক, আখেরে সাধারণ মানুষেরই মৃ’ত্যু হচ্ছে। এর বি’রুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ২০২১ সালেও মানুষ ধর্মের অজুহাত দিয়ে এই সমস্ত করে যাচ্ছে, এগুলো সত্যিই ক’ষ্টের। মানুষের জীবনের থেকেও কি ধর্ম বড়?’

অ’পরাধীদের বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন শ্রীলেখা। তিনি ছাড়াও কলকাতার একাধিক তারকা বাংলাদেশে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হা’মলার বি’ষয়ে কথা বলেছেন। অভিনেতা পরমব্রত আহ্বান জানিয়েছেন, সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসতে। গোঁড়ামি, মৌলবাদ সব ধর্মেই রয়েছে। তাই ওই ধর্মের সচেতন মানুষেরাই তাদের পরাস্ত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

পরব্রত লিখেছেন, “ফেসবুক এ বড়ো একটা আসা হয় না , কিন্তু একটি বিশেষ কারণে এলাম। বাংলাদেশে কয়েক জায়গায় দূর্গা পুজো’র মন্ডপে ইসলামি মৌলবা’দীদের তান্ডব নিয়ে কিছু পোস্ট নবমীর দিন সকাল থেকে চোখ পড়লো। সেই প্রসঙ্গে দু চার কথা…আমাকে যে ছেলেটি শুটে এটেন্ড করে, আমার স্পট বয়, তার নাম নাসির গাজী। পুজো’র পাঁচটা দিন নিয়ম করে আমাকে শো’ক থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেছে। শুভ ষষ্ঠী থেকে বিজয়া! প্রতি বারি জানায়। সরস্বতী পুজো’র দিন ক্ষণ আমার না থাকলেও ওর মনে থাকে এবং মনে করিয়েও দেয়। বাইরে শুট করতে গিয়ে কোনো দর্শনীয় মন্দিরের সন্ধান পেলে সেটাও নাসির ই আমাকে এনে দেয়।

নবমীর দিন ই সকালে আমার কাঠের মিস্তিরি সানোয়ার আলী ফোন করেছিলেন একটা কাজের কথা বলতে। ফোনালাপ শুরুই করলেন ‘শুভ নবমী দাদা’ বলে…আমার কিছু না হোক দশ জন বাংলাদেশি বন্ধু দের দেখলাম পুজো মণ্ডপে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া তে দিয়েছন। এরা সবাই ধর্মে মু’সলমান। বাংলাদেশে এবং এই বাংলায় এরকম অজস্র পুজো আছে যেগু’লির কমিটি তে গুরুত্বপূর্ণ পদে মু’সলমান রা আছেন।

কথা গুলো বলছি কারণ বাংলাদেশে কয়েকটি বিক্ষি’প্ত ঘটনা তুলে ধরে, বিদ্বেষ সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে এটা বলতে থাকা’টা উ’স্কানি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ঘটনা গু’লি থেকে যদি প্রমান হয় যে বাংলাদেশে হিন্দু রা বিপন্ন, তাহলে ভারতে গত সাত বছরে এরকম অগুনতি ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে (এবং যেগু’লি নিয়ে দেশনেতারা অভূতপূর্ব ভাবে চুপ থেকেছেন!) যেগু’লি থেকে আরও সহজে প্রমান হয় যে ভারতে মু’সলমান রা বিপন্ন! আমি বরং বলবো, বড়ো পরিসরে, এতো সত্ত্বেও মানুষের ভিতরে সদ্ভাব সম্প্রীতি আছে। কিন্তু কিছু কম মিষ্টি কথাও এই সুযোগে বলে রাখা দরকার।

গোঁড়ামি, মৌলবাদ, ইংরিজি তে যাকে বলে ফানাটিসিজম, সেটা সব ধর্মেই থাকে, থেকে এসেছে হাজার বছর ধরে। যখন যে ধর্মের মৌলবা’দী জিগির সামনে আসে, তখন সেগুলোর থেকে বেরোনোর, সেগু’লির সমালোচনা করার বা সেই বিস্বাসে বিশ্বাসী শক্তি গু’লি কে পরাস্ত করার দায়িত্ত্ব কিন্তু সেই ধর্মের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকেই আরো বেশি করে নিতে হবে!

বাংলাদেশে আমার সমস্ত বন্ধুদের কাছে তাই আমার একান্ত অনুরোধ, কুমিল্লা বা নোয়াখালী তে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নি’ন্দা করুন কোনো দ্বিধা না রেখে, দো’ষীদের ক’ঠোর শা’স্তি দাবি করুন। আপনাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সুবার্তা দিয়েছেন, আপনারাও সেই মৌলবাদ বি’রোধী সুর বজায় রাখু’ন। প্রতি বছরই প্রায় এরকম কিছু না কিছু ঘটে, সত্যি বলছি ভালো লাগে না। প্রা’ণের উৎসবের উপর আ’ক্রমণ বলে ভালো লাগে না তো বটেই, তাছাড়াও আরো বড়ো একটা কারণ হলো, এই ঘটনা গু’লি সীমানার এই পারে গোঁড়া হিন্দুত্ত্ববা’দীদের বড়ো সুবিধে করে দেয়। তাদের আস্ফালন বাড়ে , ধর্মের জিগির তুলে, এই উদাহরণ টেনে, মানুষের মনে অন্য সম্প্রদায় সম্বন্ধে ঘেন্না জন্মিয়ে রাজনৈতিক মুনাফা তোলার পথ মসৃন হয়।

আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের ধর্মের অতিরিক্ততার বি’রুদ্ধে কথা বলা আরম্ভ করি। ধর্ম মানে বিশ্বাস, কিছু মানুষের এক সঙ্গে হওয়া, অনেক বছর ধরে চলে আসা কিছু আচার, কিংবা সমাজ কে এক রকম ভাবে সংঘবদ্ধ রাখার জন্যে তৈরী করা কিছু নিয়ম, বা হয়তো নানান উৎসব! যেটাই হোক, বিশ্বাস আর অতি বা অন্ধ বিশ্বাস (যা অন্য মানুষ কে জো’র করে, বা ক্ষ’তি করে) এর মধ্যে সুক্ষ লাইন টা কোথায় সেটা আমাদেরই বুঝে নিতে হবে!

তাই নাসির, সানোয়ার বা আমার বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন নির্মাতা এবং অভিনেতা বন্ধু কাম দাদা গাউসুল আলম শাওন (যিনি আদর করে মেয়ে নাম রাখেন অন্নপূর্ণা), এদের উদাহরণ গুলো সবার সামনে তুলে ধরি, কুমিল্লা নোয়াখালী তে দূর্গা পুজো আ’ক্রমণ, বা ভারতে ঘটতে থাকা একের পর এক মু’সলমান নিধনের ঘটনা গু’লি নয়। আর আমরা হিন্দু রাও শুধু নিয়ম মাফিক ঈদ মুবারক বলা আর বিরিয়ানি খাওয়ায় সীমিত না থেকে ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্প্রদা’য়ের ধর্মই এবং ইতিহাসটাকে একটু কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করি। এতে হয়তো বাংলদেশে ইসলামি মৌলবা’দীদের রোষানলে পড়তে হবে আপনাদের, আমাদের যেমন ভারতে পড়তে হয় হিন্দু ধর্মের স্বঘোষিত ধারক ও রক্ষক অতি দক্ষিণ পন্থী রাজনীতির কারবারিদের।

কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাস খুব জটিল ,যাকে ইংরিজিতে বলে chequered! তাই আমাদের, মানে এই ভূমির বাসিন্দাদের দায়িত্ত্ব ও অনেক বেশি। নিঃশ্বাস নেয়া যেমন দরকার, ঠিক তেমন দরকার এই বোধ গুলো নিজেদের মধ্যে মোমবাতির মতো জ্বা’লিয়ে রাখা। শুভ বিজয়া সবাইকে।

পুনশ্চ : কিছু গর্বিত তলোয়ার ধারি হিন্দু আমি নিশ্চিত এই পোস্টে এসে খিস্তোবেন …

কিছু শরীয়ত আইন কায়েম ও রক্ষার দায়িত্ত্বে থাকা মু’সলমান ও এসে গাল পাড়বেন আমি জানি…

বলে রাখি, আমি বা আমরা কিন্তু জানি, আপনারা দুজনেই আসলে একই দলের লোক। জাস্ট নাম গুলো আলাদা, আর তাই সেই সুযোগে আমাদের টুপি পরাবার তালে থাকেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর দিন নোয়াখালী জে’লার বেগমগঞ্জ থানার চৌমুহনীর ইসকন মন্দিরে হা’মলা করে দু’র্বৃত্তরা। কোরআন অবমাননার অ’ভিযোগে ধর্মীয় স্থানটিতে ভাং’চুর করলে মন্দিরের ব্যাপক ক্ষ’তি হয়। এছাড়া পার্থ দাস নামের মন্দিরের এক সদস্যকেও খু’ন করে হা’মলাকারীরা। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি স্থানে হা’মলার অ’ভিযোগ পাওয়া যায়।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com