নামেই ‘পীর’, প্রতারণা-তদবিরে কামিয়েছেন কোটি টাকা

| আপডেট :  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশিত :  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এমন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে যিনি ‘পীর’ সেজে প্রতারণা, তদবির, চাকুরি দেওয়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। প্রতারণার অভিযোগে আব্দুল মুত্তালিব চিশতি নামের এই পীরকে গত সোমবার বিকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি দল রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মশিউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।এ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুটি মামলা থাকলেও শতাধিক ভুক্তভোগী লোকলজ্জায় অভিযোগ করছেন না বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তার বিরুদ্ধে পীরবাদ ও রাজনৈতিক পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে মাস্টাররোলে চাকরি দেওয়া, রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট স্বল্পমূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

এমনকি গ্রেপ্তার চিশতি দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার প্রার্থীদেরকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও জানতে পেরেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এমন সব প্রতারণার জন্য মানুষের বিশ্বাস অর্জনে মুত্তালিব চিশতি বেছে নেন পীরবাদকে বলে উল্লেখ করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, “চিশতির বাসায় সপ্তাহান্তে জিকিরের হিড়িক পড়ে। তখন কাফনের সাদা কাপড় পরে তিনি চোখ বন্ধ করে বয়ান করেন আর লম্বা মোনাজাত ধরেন। ভক্তরা আবেগে অশ্রু বিসর্জন দিতে শুরু করলে আব্দুল মুত্তালিব কখনও কখনও চোখ খুলে সন্ধান করেন শিকারের, কাকে টার্গেট বানানো যায় ‘গে এক্টিভিজমের প্যাসিভ পার্টনার’ হিসেবে।

“পবিত্র কোরআনের সর্বসাকুল্যে তিনটি সুরা জানা এই অজ্ঞ-মূর্খ আব্দুল মুত্তালিবের জন্য পীরবাদ, চিশতিয়া ত্বরিকা যৌন হয়রানি আর ব্যবসার একটা কৌশলমাত্র।”

ঊর্ধ্বতন এ গোয়েন্দা বলেন, “ধান্দাবাজি আর প্রতারণায় রাজনীতিকে ব্যবহার করার দৌড়েও বেশ এগিয়ে এ ভন্ড পীর। ইতোমধ্যে একটি চক্রকে নিয়ে উনি বানিয়েছেন আওয়ামী নির্মাণ শ্রমিক লীগ, বাগিয়ে নিয়েছেন সিনিয়র সহসভাপতি পোস্ট। এই পদবী ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষ এবং মহিলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তুলেছেন সেলফি ও ছবি।

“তাদেরকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রবেশ করেছেন সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে শিক্ষা, ভূমি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। মূলত যে সমস্ত মন্ত্রণালয় সমগ্র দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে সে সমস্ত মন্ত্রণালয়গুলোতে আনাগোনা করে কখনও মন্ত্রী, কখনও সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলেছেন তিনি।”

প্রতারণার জন্য নতুন নতুন শিকারের জন্য এই ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান উল্লেখ করে উপকমিশনার মশিউর বলেন, “একদিকে পীরবাদের বয়ান করতে, আরেকদিকে রাজনৈতিক প্রচার প্রচারণার জন্য সফর করেছেন দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। সেখান থেকেই তার প্রতারণা শুরু হয়।” চিশতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ডের জন্য পুলিশ আদালতে আবেদন করেছে বলে জানান তিনি