ভারতীয় নাগরিক হয়েও বাংলাদেশের ইউপি চেয়ারম্যান, বউও করে সরকারি চাকরি

| আপডেট :  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশিত :  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নাগরিক মনোরঞ্জন পাল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেও ভোটার হিসেবে তার নাম দেখা যায়। তবে এররপরও মনোরঞ্জন পাল বাংলাদেশের একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এমনকি তার স্ত্রীও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের মোল্লারহাট গ্রামে। মনোরঞ্জন পালসহ তার স্ত্রী এবং সন্তানও বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিক। তবে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মনোরঞ্জন।। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েছেন সুশান্ত বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ করে সুশান্ত পাশের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অপরদিকে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ খতিয়ে দেখছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মনোরঞ্জন পাল মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের ডাবরা গ্রামের অমৃত লালের ছেলে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগা মহাকুমার বাগদা থানার কনিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায়ও তার নাম রয়েছে।

তার স্ত্রী ৮২ নং দক্ষিন চুনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্নেহলতা পাল এর নাম রয়েছে কনিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায়। মনোরঞ্জন পালের ছেলে সৌমিত্র পালও ভারতীয় নাগরিক। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার (http://ceowestbengal.nic.in) এর ওয়েবসাইটে তাদের নাম ও ঠিকানা রয়েছে।

এ বিষয়ে মনোরঞ্জন পাল বলেন, আমি এবং আমার পরিবারের সকল সদস্য শুধুমাত্র বাংলাদেশী নাগরিক। ভারতে আমার কোন নাগরিকত্ব নেই। কোন ব্যবসা বাণিজ্যও নেই। কোন একটি কুচক্রী মহল এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে তাদের সকলের নাম রয়েছে কেন এমন প্রশ্নে মনোরঞ্জন পাল বলেন, ওয়েবসাইটের বিষয়ে তিনি কিছু জানেননা। ওয়েবসাইট বুঝেন না।

মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রবীর কুমার মল্লিক বলেন, নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী কোন ব্যক্তির নাম বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার তালিকায় থাকলেই সে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে কোন আদালত অথবা সরকারের সাংবিধানিক কোন প্রতিষ্ঠান যে নির্দেশনা দিবে নির্বাচন কমিশন সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।