সাইকেল মিস্ত্রি থেকে তিনবার ভোটে জিতে টাকার মালায় সিক্ত ইয়ার আলি

| আপডেট :  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৪ অপরাহ্ণ | প্রকাশিত :  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৪ অপরাহ্ণ

পেশায় একসময় ছিলেন সাইকেল মিস্ত্রী। তবে ঘটনাক্রমে তিনিই এখন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। সেটিও একবার কিংবা দুবার নয় টানা তিনবার জনগণের ভোটে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন একসময়ের সাইকেল চালক ইয়ার আলি।

ব্যতিক্রমী এ ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নে। ইয়ার আলী এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোজাফফর রহমানকে ১০৪ ভোটে হারিয়েছেন। তবে নির্বাচনে জেতার পর তিনি জনসমক্ষে হাজির হয়েছেন আরেক ইয়ার আলি হিসাবে। গলায় ফুলের মালা ছাড়াও তিনি সিক্ত হলেন টাকার মালায়।

ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া এ ঘটনার বিষয়ে ইয়ার আলি বলেন, গ্রামবাসী ভালোবেসে তার গলায় টাকার মালা পরিয়ে দিয়েছে। এতে অসুবিধা কোথায়।

তবে টানা তিনবার নির্বাচিত হলেও ইয়ার আলির বিরুদ্ধে রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার যে গ্রামে বসবাস করেন তিনি সীমান্তবর্তী সেই গ্রামের নাম গাড়াখালি। এর নিকটেই প্রবাহিত বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণকারী নদী সোনাই। ছোট্ট এই নদী পার হলেই ওপারে ভারতীয় সীমান্ত। পশ্চিম বাংলার ২৪ পরগনা জেলার বিথারী গ্রামে জন্ম ইয়ার আলির।

অভিযোগ আছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কেড়াগাছি ইউনিয়নে ইয়ার আলি, মনসুর ও তার ছেলে শাহঙ্গীর রাতে কেড়াগাছি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল মেরে রেখে আসেন তিনি। এ কারণে এই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে রেখেছে প্রশাসন। তবে ইয়ার আলি অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, ওই কেন্দ্রটি আমার নয়। তাই আমি কেনো যাবো সেখানে।

স্থানীয়রা জানান, ইয়ার আলি ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসার পর সাইকেল মিস্ত্রির কাজ করতেন। তিনি কখনও বিএনপি কখনও আওয়ামী লীগ করেছেন। এখন তিনি ভোল পাল্টে হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে এ বিষয়ে ইয়ার আলি বলেন, তার নামে কোনো থানায় কোনোদিন মামলা অথবা জিডি হয়নি। তবে কিছু লোক বারবারই নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তাকে চোরাচালানী বলে প্রচার দিয়ে থাকে।