পরীমনির জন্য প্রতিবাদ দেখে প্রাণ জুড়োচ্ছে তসলিমা নাসরিনের - বাংলা একাত্তরপরীমনির জন্য প্রতিবাদ দেখে প্রাণ জুড়োচ্ছে তসলিমা নাসরিনের - বাংলা একাত্তর

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

পরীমনির জন্য প্রতিবাদ দেখে প্রাণ জুড়োচ্ছে তসলিমা নাসরিনের

পরীমনির জন্য প্রতিবাদ দেখে প্রাণ জুড়োচ্ছে তসলিমা নাসরিনের

পরীমনির ও’পর নি’র্যাতন নিয়ে এখন বাংলাদেশে প্র’তিবাদে সোচ্চার মানুষ। দেখে প্রা’ণ জুড়োচ্ছে। একসময় যখন কেউ ছিল না তার পাশে, যারা মন্দ লোক, তারা তাকে নিয়ে অকথ্য মন্দ কথা বলছিল, যারা ভালো লোক, তারা মুখ বুজে ছিল- তখন ব্রাত্য আমি আরেক ব্রাত্য’র পাশে দ্বিধাহীন দাঁড়িয়েছিলাম।

তারপর ধীরে ধীরে মৃদু কণ্ঠে তার পক্ষে কথা বলতে শুরু করল কেউ কেউ, তারাও মেয়েটির সম্পর্কে তিনটে ভালো কথা বললে তিনটে মন্দ কথা বলছিল- তাতে ‘ব্যালেন্স’ হয়, অন্যায়ের প্র’তিবাদও হয়। বিশিষ্টরা এলেন আরও পরে, তারও পরে এখন বিশিষ্ট অবিশিষ্ট সকলেই চেহারা দেখাতে কার্পণ্য করছেন না। এভাবেই কিন্তু প্র’তিবাদগুলো গড়ে ওঠে। ব্রাত্যরা সাত পাঁচ না ভেবে স্রোতের বিপক্ষে দাঁড়ায়।

স্রোত যখন খুব বেশি বিপক্ষে নয়, তখন সুশীলদের দেখা মেলে। যে মেয়েকে বেশ্যা বলা হয়, সেই মেয়ের পক্ষে সেই মেয়েরাই প্রথম দাঁড়াতে সাহস করে, যাদেরও কোনও না কোনও সময় বেশ্যা বলে সমাজের লোকেরা অ’পমান করেছে। ভদ্রমহোদয় বা ভদ্রমহিলারা অত সহজে ব্রাত্যদের পক্ষে কথা বলে না। কারও বি’রুদ্ধে অন্যায় হলেও তারা আগে বুঝে নিতে চায় মুখ খুললে আবার বি’পদ হবে কি না। কত তো অন্যায় হচ্ছে সমাজে, কটা অন্যায়ের প্র’তিবাদ সুশীল সমাজ করে? যেটুকুই করে,গা বাঁচিয়ে করে।

আ’শঙ্কা হচ্ছিল, যেভাবে কোনও ক্ষমতাধরের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আ’দালত পরীমনিকে হে’নস্থা করছে, হয়তো মেয়েটির স’র্বনাশ না করে ছাড়বে না। আ’শঙ্কা হচ্ছিল মেয়েটিকে বোধহয় ছুঁড়েই ফে’লে দেবে সমাজ। কিন্তু না, তার ফিরে আসার জন্য চিত্রপরিচালকগণ অপেক্ষা করছেন। জা’মিনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তার মেরুদ’ণ্ডহীন আইনজীবীকেও ধিক্কার দেওয়া হচ্ছে।

এভাবেই একটু একটু করে জনমত গড়ে উঠছে, এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস পরীমনি বিজয়ী হয়েই নিজের জীবনে ফিরে আসবে। তাকে হে’নস্থা করার জন্য শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ আ’দালতকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। পরীমনিকে অন্যায় ভাবে জা’মিন না দিয়ে জে’লে ব’ন্দি করা হয়েছে, এ নিয়ে খবর হচ্ছে বলে আমরা জানতে পাচ্ছি। কত হাজারো নির্দোষকে জা’মিন না দিয়ে জে’লে ব’ন্দি করা হয়েছে এবং হচ্ছে, তার খবর কে রাখে!

কত নির্দোষকে ফাঁ’সিকাষ্ঠে ঝোলানো হয়েছে, যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে, বিনা বিচারে জে’লে ফে’লে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর, তার তালিকা বের করা যায় না? তারাও ব্রাত্য। সবার পিছে সবার নিচে পড়ে থাকা সর্বহারা ব্রাত্যদের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যেস করতে হবে। তাদের বি’রুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের প্র’তিবাদ করা শিখতে হবে। সাত পাঁচ ভাবলে সমাজ বদলানো যায় না।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com