বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

অল্প বয়সেই ভিন্ন পথে মুনের বেপরোয়া জীবন

অল্প বয়সেই ভিন্ন পথে মুনের বেপরোয়া জীবন

ছোটবেলা থেকেই বে’পরোয়া ছিলেন মেহজাবিন ইসলাম মুন। বাবা মাসুদ রানা বিদেশে থাকায় তাকে শাসন করার মতো কেউ ছিল না। খা’রাপ বন্ধুদের সঙ্গ অল্প বয়সেই মুনকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। সুযোগ পেয়ে মুন নিজের ও’পর নিয়ন্ত্রণ হা’রিয়ে ফে’লেন। যখন যা মনে হয়েছে তাই করেছেন। দিন রাতের বেশির ভাগ সময় মুনের কাটতো বন্ধুদের সঙ্গে। মা’দক সেবন, নাইট পার্টি, একাধিক পুরুষের শয্যাসঙ্গী হওয়া ছিল স্বাভাবিক বি’ষয়। গভীর রাতে বাড়ি ফেরা এটি ছিল তার নিত্য দিনের স্বভাব।

বন্ধুদের সঙ্গে মিশে মা’দকাসক্ত হয়ে পড়েন। একসময় মা’দক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন তিনি। মেয়ের অন্ধকার জগতে বে’পরোয়া হয়ে ওঠা দেখে খোদ তার মা-বাবাও অবাক হয়ে যান। অনেক চেষ্টা করেও তাকে স্বাভাবিক পথে আনতে ব্যর্থ হন। মুনের এই বে’পরোয়া জীবনে অ’তিষ্ঠ ছিল সবাই। আর এটিই পরিবারের জন্য কাল হয়ে ওঠে। ভিন্ন ভিন্ন ক্ষো’ভের কারণে নিজের মা-বাবা ও ছোট বোনকে বি’ষাক্ত দ্রব্য খাইয়ে হাত-পা বেঁ’ধে শ্বা’সরো’ধ করে হ’’ত্যা করেন। পরে নিজেই পুলিশের জরুরি সেবা-৯৯৯ এ ফোন করে হ’’ত্যার কথা জানান। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের কাছে মুন অকপটে মা, বাবা ও বোনকে হ’’ত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পুুলিশের ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট ও নি’হতদের স্বজনসূত্রে জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ের আগে মুন কেরানীগঞ্জের একজনকে বিয়ে করেছিলেন। মুনের বে’পরোয়া জীবনযাপনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেননি ওই স্বামী। তাই তাদের মধ্যে নিয়মিতই ঝ’গড়া লেগে থাকতো। বে’পরোয়া জীবন থেকে বের হয়ে আসার জন্য তাগাদা দিলেই স্বামীর সঙ্গে ঝ’গড়া হতো মুনের। একসময় ক্ষো’ভের মুখে ওই স্বামীকে খু’ন করার অ’ভিযোগ তার বি’রুদ্ধে। স্বামীকে হ’’ত্যার দায়ে ৫ বছর জে’লও খেটেছিলেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, একাধিক পুরুষের সঙ্গে মুনের অ’নৈতিক সম্পর্ক ছিল। টাকার বিনিময়ে একাধিক পুরুষের শয্যাসঙ্গী হয়েছেন।

শফিকুলের সঙ্গে বিয়ের পর মুন আরও বে’পরোয়া হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে বাবা-মায়ের সম্পদের প্রতি তার চোখ পড়ে। প্রায়ই সে তার বাবা-মাকে সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য চা’প দিতেন। যখন তখন টাকা-পয়সা চাইতেন। কিন্তু তার মা মৌসুমি ইসলাম তার এসব প্রস্তাবে আপত্তি করতেন। এজন্য মায়ের সঙ্গে তার বি’রোধ ছিল। সম্পত্তি লিখে দেয়ার পেছনে তার স্বামীর ইন্ধন ছিল বলে স্বজনরা মনে করছেন। এজন্য মা’মলায় তার স্বামীকেও আ’সামি করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি মুনের স’ন্দেহ হয় তার ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামী শফিকুলের প’রকীয়ার সম্পর্ক আছে।

এ নিয়ে বাবা ও মায়ের কাছে একাধিকবার অ’ভিযোগ করেছেন। কিন্তু মা-বাবা মুনের এই অ’ভিযোগকে প্রশ্রয় দেননি। এতে করে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথাকা’টাকাটিও করেন মুন। সবমিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনে জমে থাকা ক্ষো’ভ থেকেই বাবা-মা ও বোনকে হ’’ত্যার পরিকল্পনা করেন। তার ধারণা ছিল সবাইকে হ’’ত্যা করলে সম্পত্তি দাবি করার আর কেউ থাকবে না। আর বি’ষাক্ত কিছু খাইয়ে হ’’ত্যা করলে সবাই ভাববে তারা একসঙ্গে আত্মহ’’ত্যা করেছেন।

নি’হত মাসুদ রানার পরিবারের অন্য সদস্যরা গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম’র্গে দাবি করে বলেন, মুনের একার পক্ষে এই নি’র্মম হ’’ত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। সঙ্গে তার স্বামী শফিকুলও জ’ড়িত। মুনের খালা শিউলি আক্তার জানান, মুনের একার পক্ষে এই খু’ন করা সম্ভব না। তার সঙ্গে তার স্বামী শফিকুলও জ’ড়িত ছিল। হ’’ত্যাকাণ্ডের বি’ষয়টি আগে থেকে তাদের পরিকল্পনায় ছিল এবং সেটি তার স্বামীর প্ল্যান অনুযায়ী।

মুন তাকে সহযোগিতা করেছে। একই অ’পরাধে দু’জনই অ’পরাধী। তাদের মে’রে ফেলতে পারলে সব সম্পত্তির মালিক হবে তারা। এই লোভে তাদের হ’’ত্যা করা হয়েছে। আর মেহজাবিনকে সে সম্পত্তির লোভে ব্যবহার করেছে। এই হ’’ত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

তিনি আরও জানান, মুনের সঙ্গে প্রথমে তার স্বামী শফিকুলের একটি বিকাশের দোকান থেকে সম্পর্ক হয়। পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যখন তাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো তখন তার ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। যখন পরিবারের লোক বুঝতে পারে তখন জান্নাতুলকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। এটা নিয়ে ওদের পরিবারে সবসময় কথাকা’টাকাটি হতো। এই ব্যাপারটি নিয়ে বোনের সঙ্গে মনোমালিন্য ছিল। এবং তাদের বাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তার বাবা রোজার মধ্যে বিদেশ থেকে দেশে আসলে তার স্বামীকে নিয়ে তারা বাবার বাড়িতে যায়। পরিবারের সঙ্গে পুনরায় আসা যাওয়া শুরু করে। আসা-যাওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা দু’জন এই হ’’ত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।

এদিকে মা, বাবা ও বোনকে হ’’ত্যার ঘটনায় করা মা’মলায় মেহজাবিন ইসলাম মুনের চারদিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেছেন আ’দালত। গতকাল মুনকে ঢাকা মহানগর হাকিম আ’দালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর হ’’ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মা’মলার সুষ্ঠু ত’দন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রি’মান্ডে নিতে আবেদন করেন মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা কদমতলী থানার পরিদর্শক জাকির হোসেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস তার চারদিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে কদমতলী থানায় মুন ও তার স্বামী শফিকুল ইসলামকে আ’সামি করে মা’মলা করেন মুনের চাচা সাখাওয়াত হোসেন। কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন মীর বলেছেন, হ’’ত্যাকাণ্ডে জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগে গত শনিবারই মেহজাবিন ইসলাম মুনকে আ’টক করে থানায় জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার স্বামী শফিকুল ইসলাম আ’হত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে। সুস্থ হলে তাকে এ মা’মলায় গ্রে’প্তার দেখানো হবে।

কদমতলী থানার এজাহারে মুনের চাচা সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেছেন, আমার ছোট ভাই মাসুদ রানা দীর্ঘ ২৬ বছর যাবৎ সৌদি আরবে থাকতেন। প্রায় মাঝে মধ্যে দেশে আসতেন। ছোট ভাইয়ের বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুনকে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার পর থেকে আমার ভাইয়ের স্ত্রী মৌসুমীকে বিভিন্ন ভাবে জ্বা’লা-য’ন্ত্রণা ও টাকা-পয়সা দাবি এবং সম্পত্তি তাদের নিজেদের নামে লিখে দেয়ার জন্য চা’প প্রয়োগ করতো। এতে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাজি না হওয়ায় মুন ও তার স্বামী আমার ছোট ভাইয়ের বউ, ছোট ভাই ও তাদের মেয়েকে ৬ মাস ধরে হ’’ত্যার পরিকল্পনা করতো।

আমার ছোট ভাই তিন মাস আগে সৌদি আরব হতে দেশে আসে এবং তাদের বর্তমান ঠিকানায় বসবাস করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মুন ও তার স্বামী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শুক্রবার বিকালে ভাইয়ের বাসায় আসে। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সবকিছু ভু’লে আ’সামিদ্বয়কে বাসায় থাকতে দেয়। পরে ওই রাতেই আমার ভাই তার স্ত্রী ও তাদের মেয়ে জান্নাতুল ইসলাম মোহনীকে বিভিন্ন সময়ে চা-কপি ও পানির সঙ্গে ঘুমের ও’ষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়। এতে সবাই অ’চেতন হয়ে গেলে তারা গ’লায় ওড়না পেঁ’চিয়ে শ্বা’সরো’ধ করে একে একে সবার মৃ’ত্যু নিশ্চিত করে।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com