রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০১:২৬ অপরাহ্ন

ইয়াসের তীব্র ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড সেন্টমার্টিন

ইয়াসের তীব্র ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড সেন্টমার্টিন

দেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে অন্যতম আরাধ্য একটি পর্যটন গন্তব্য হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। করোনায় পর্যুদস্ত পর্যটনশিল্পের একমাত্র প্রবালদ্বীপটিতে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে উপড়ে যাচ্ছে গাছপালা। ভাঙন ধরেছে জেটির পল্টুনে ও রাস্তাঘাটে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সেখানে বসবাস করা ১০ হাজার এই দ্বীপের বাসিন্দা বর্তমানে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া, ভেঙে পড়েছে কয়েকটি ঘর-বাড়িও। মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল থেকে এই দ্বীপে অস্বাভাবিক জোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে। সাথে ঝড়বৃষ্টিও আঘাত হানতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে আকস্মিক ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়ে এইপর্যন্ত কয়েকটি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। উপড়ে গেছে শতাধিক গাছ।

দ্বীপের বাসিন্দা নুর কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আংতকে দ্বীপের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। আর মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে। তার চেয়ে বেশি আঘাত হানছে প্রবল জোয়ারের পানি। জোয়ারের পানিতে দ্বীপের পাড়ের গাছপালা উপড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাংছে রাস্তাঘাট। তাই আমার মতো দ্বীপের সব বাসিন্দাই ভয়ে আছেন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, দ্বীপের লোকজনক সরিয়ে নেওয়ার মত এখনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি সংকেত ৪ নম্বর দেয়, তখন মাইকিং করে লোকজন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, “ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দ্বীপের উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকের অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে গেছে। রাস্তাঘাট ভাংছে। আর প্রবল জোয়ারের পানিতে বালিয়াড়িতে থাকা ৫টি ট্রলার ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও প্রবল জোয়ারের পানিতে জেটির পল্টুনটি বিধ্বস্ত হয়েছে। নানা অংশ ভেঙে পড়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন স্টেশনের ইনচার্জ লে. কমান্ডার রাসেল মিয়া বলেন, দ্বীপে সব মিলিয়ে বাসিন্দা রয়েছে ১০ হাজার ২৬ জন। ইতিমধ্যে দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট, স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ মিলে ৩০টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে ৬ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

লে. কমান্ডার রাসেল মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের পানিতে জেটির পল্টুন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সকল ধরণের ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। টেকনাফে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০টি অধিক ট্রলার। আর ছোট ট্রলার, নৌকা ও স্পীডবোটসমূহ দ্বীপের উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে। আশা করি, সবার সমন্বয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলা সম্ভব হবে।

আর সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের একটি টিম, রেডক্রিসেন্টের লোকজন ও দ্বীপে দায়িত্ব থাকা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছে। অবস্থা খারাপ হলে প্রয়োজনে দ্বীপের সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Comments are closed.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 banglaekattor.com